1 Answers
মনুষ্যত্ব অর্জনের শিক্ষাই প্রকৃত শিক্ষা"- মন্তব্যটি উদ্দীপক এবং 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের ক্ষেত্রে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ।
শিক্ষা মানুষের সার্বিক উন্নতি সাধন করে। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের আত্মার মুক্তি ঘটে এবং আত্মপ্রকাশের সুযোগ লাভ করা যায়। জীবসত্তা থেকে মানুষের মানবসত্তায় উত্তরণের পথ হলো শিক্ষা। শিক্ষার আলোয় হৃদয় আলোকিত হয়, মানুষ মনুষ্যত্ব অর্জন করে। প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত না হলে মানুষ মনুষ্যত্বের স্বাদ পায় না। মনুষ্যত্বের অভাবে মানুষ শিক্ষিত হয়েও অন্ধকারেই থেকে যায়।
উদ্দীপকে মনুষ্যত্বের দিকটি গুরুত্ব পেয়েছে। এই দিকটির অভাবে সমাজে অশান্তি ও অকল্যাণ বিরাজ করে। মনুষ্যত্বহীন ব্যক্তির দ্বারা সমাজ ও মানুষের প্রকৃত কল্যাণ সম্ভব হয় না। এখানে মনুষ্যত্বকে বাদ দিয়ে স্রেফ জৈব অস্তিত্বের যে মূল্য নেই সেই দিকটি নির্দেশ করা হয়েছে। উদ্দীপকের এই বিষয়টি 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে আলোচিত মনুষ্যত্ব অর্জনের গুরুত্বের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে মনুষ্যত্বহীন মানবকল্যাণকে প্রকৃত কল্যাণ নয় বলে বক্তব্য রয়েছে। এ বিষয়টি প্রবন্ধের অর্থের নিগড়ে বন্দি থাকাই জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নয় প্রসঙ্গের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে লেখক দুটি সত্তার কথা বলেছেন। এগুলোর একটি জীবসত্তা, অন্যটি মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব। শিক্ষার মাধ্যমে এই মনুষ্যত্ব অর্জিত হয়। তবে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত না হলে মনুষ্যত্ব অর্জিত হয় না। উদ্দীপকেও প্রকৃত কল্যাণের জন্য মনুষ্যত্বের কথা বলা হয়েছে, যা প্রকৃত শিক্ষা ছাড়া সম্ভব নয়। প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে মানবিক করে মানবকল্যাণে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। 'শিক্ষা ও মুনষ্যত্ব' প্রবন্ধে লেখক মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষের প্রত্যাশা করেছেন। উদ্দীপকেও এর প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।