1 Answers

"শ্যামলের কাজে শিক্ষার অপ্রয়োজনীয় দিকটি উপস্থিত।"- 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করলে সত্যতা প্রমাণিত হয়।

শিক্ষা মানুষের সার্বিক উন্নতি সাধন করে। শিক্ষা মানুষের বুদ্ধির উৎকর্ষ সাধন করে আত্মার মুক্তিদান করে, মানুষকে আত্মপ্রকাশের সুযোগদানের মাধ্যমে মনুষ্যত্বলোকের সঙ্গে পরিচিত করে তোলে। তাতে মানুষ অর্থচিন্তার নিগড় থেকে মুক্তিলাভ করে মানবসত্তায় উপনীত হয় এবং বস্তুগত দাসত্ব থেকে বেরিয়ে আসে।

উদ্দীপকে শিক্ষার প্রকৃত ও অপ্রকৃত দিক ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সুমন ও শ্যামলের কাজের মধ্যে এই দুটি দিকের আলাদা আলাদা প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের আলোকে এ দুজনের মধ্যে শ্যামল শিক্ষার অপ্রয়োজনীয় দিকটি ধারণ করেছে। সেখানে আত্মার মুক্তি ও মানবতার কল্যাণের চিন্তা বিদ্যমান। আর শিক্ষার প্রয়োজনীয় দিকটি হচ্ছে জীবসত্তারূপী মানুষের অন্ন-বস্ত্রের দাবি মেটানো।

'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে লেখক মানুষের দুটি সত্তার কথা বলেছেন- জীবসত্তা এবং মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব। মানুষকে মনুষ্যত্বের অধিকারী হওয়ার বিষয়টির সঙ্গে উদ্দীপকের শ্যামলের কর্মকাণ্ড সাদৃশ্যপূর্ণ। সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষকতার মতো আদর্শ পেশা বেছে নিয়েছে সবার মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে। মানুষকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই তার উদ্দেশ্য। মানব কল্যাণে আত্মনিয়োগ ক্ষেত্রে সে একাগ্রচিত্ত। সে কারণে সিডরে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করে তাদের সাহায্যে এগিয়ে গেছে। নিজে মনুষ্যত্বের অধিকারী হয়ে অন্যকেও উৎসাহিত করেছে মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। এসব দিক বিবেচনায় দেখা যায় শ্যামলের কাজে শিক্ষার অপ্রয়োজনীয় দিকটি উপস্থিত। সুতরাং 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।

6 views

Related Questions