1 Answers

উদ্দীপকের রাজুর জীবনে শিক্ষা সোনা ফলাতে পারেনি। কারণ সে তার জীবনে জীবসত্তা বা ক্ষুৎপিপাসাকেই প্রাধান্য দিয়েছে। 

মানুষের জীবনে যেমন অন্ন-বস্ত্রের প্রয়োজন আছে তেমনই প্রয়োজন রয়েছে মনুষ্যত্ব অর্জনের। মানুষ যখন জীবনের জন্য অধিক অর্থচিন্তায় ব্যস্ত থাকে তখন সে প্রকৃত শিক্ষা অর্জনে ব্যর্থ হয় এবং মনুষ্যত্বহীন হয়ে পড়ে।

'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে লেখক মানবজীবনকে একটি দোতালা ঘরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। জীবসত্তা হলো সেই ঘরের নিচের তলা। জীবসত্তা সবসময় মানুষকে অর্থচিন্তার নিগড়ে বন্দি করে রাখে। অর্থের লোভ তাকে লোভী করে তোলে। শিক্ষার প্রকৃত গুরুত্ব মানুষ অনুধাবন করতে পারে না। যার ফলে মানুষ কখনই মানবসত্তার ঘরে উন্নীত হতে পারে না। শিক্ষা তার জীবনে সোনা ফলাতে পারে না। উদ্দীপকের রাজুর জীবনেও শিক্ষা সোনা ফলাতে পারেনি। কারণ সে জীবনে অন্নবস্ত্রের প্রাচুর্যকেই বড় করে দেখেছে। তার মধ্যে মূল্যবোধ সৃষ্টি হয়নি, ফলে সে বন্ধুদের ঠকিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। সে প্রাণিত্বের বাঁধন থেকে মুক্ত হতে পারেনি।

উদ্দীপকের রাজু জীবনে মনুষ্যত্ববোধ অর্জন করতে পারেনি। অর্থসাধনাকেই জীবনসাধনা মনে করেছে। কিন্তু 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বলেছেন অর্থসাধনাই জীবনসাধনা নয়। অর্থচিন্তার নিগড় থেকে বের হতে না পারলে মনুষ্যত্ববোধ অর্জিত হয় না। শিক্ষা জীবনে সোনা ফলাতে পারে না। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের রাজুর জীবনে শিক্ষা সোনা ফলাতে পারেনি। কারণ সে তার জীবনে জীবসত্তা বা ক্ষুৎপিপাসাকেই প্রাধান্য দিয়েছে।

4 views

Related Questions