1 Answers
"উদ্দীপকের হাফিজ সাহেবের চেতনায় 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের আসল উদ্দেশ্য ফুটে উঠেছে"- মন্তব্যটি যথার্থ।
শিক্ষা মানুষের সার্বিক উন্নতি সাধন করে। প্রকৃত শিক্ষা মানুষের বুদ্ধির উৎকর্ষ সাধন করে আত্মার মুক্তিদান করে। শিক্ষা মানুষকে আত্মপ্রকাশের সুযোগ দানের মাধ্যমে মনুষ্যত্বলোকের সঙ্গে পরিচিত করে তোলে। তাতে মানুষ অর্থচিন্তার নিগড় থেকে মুক্তি লাভ করে মানবসত্তায় উপনীত হয়।
উদ্দীপকের হাফিজ সাহেব অর্থচিন্তার নিগড় থেকে মুক্ত হয়ে মানবসত্তায় উপনীত হয়েছেন। ফলে তিনি তাঁর বন্ধু শাওনের মতো অর্থের পেছনে না ছুটে মানবকল্যাণে কাজ করেছেন। তাঁর শ্রম ও অর্থ দিয়ে গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেই স্কুলে তিনি শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেন এবং তাদের মানবিক হতে দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় নিয়ে যান। তাঁর এই কল্যাণচিন্তা ও মানবতাবোধ 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। কারণ আলোচ্য প্রবন্ধে মনুষ্যত্ব অর্জনের যে দিকের কথা লেখক আলোচনা করেছেন, উদ্দীপকের হাফিজ সাহেবের কর্মকাণ্ড সেই মানবিক দিকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে শিক্ষার দুটি দিক তথা জীবসত্তা ও মানবসত্তার কথা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই দুটি দিকের একটির প্রতিনিধি শাওন সাহেব এবং অন্যটির প্রতিনিধি হাফিজ সাহেব। হাফিজ সাহেবের স্বভাব-বৈশিষ্ট্য ও কর্মকাণ্ডে শিক্ষার প্রকৃত দিক তথা মানবসত্তার বা মনুষ্যত্বের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। 'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধের লেখকও এই দিকটি বিকাশ ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এদিক থেকে বলা যায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।