1 Answers

প্রাকৃতিক বা স্বাভাবিক খাদ্যবস্তুতে অবস্থিত সকল তৈলাক্ত বস্তু যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না, কিন্তু চর্বি দ্রাবকে দ্রবীভূত হয় তাদেরকে স্নেহ পদার্থ বলে।

উৎস অনুসারে স্নেহ পদার্থকে উদ্ভিজ্জ স্নেহ ও প্রাণিজ স্নেহ এ দু ভাগে ভাগ করা হয়। উদ্ভিদ থেকে যে সকল স্নেহ পাওয়া যায় তাকে উদ্ভিজ্জ স্নেহ বলে। যেমন- বিভিন্ন ধরনের তেল, বাদাম, সয়াবিন ইত্যাদি। আর প্রাণিজগৎ থেকে যে সকল ফ্যাট পাওয়া যায় তাকে প্রাণিজ ফ্যাট বলে। যেমন- ঘি, মাখন, পশুর চর্বি ইত্যাদি।

আবার গঠনগত বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে স্নেহ পদার্থকে সরল স্নেহ, যৌগিক স্নেহ ও উদ্ভুত স্নেহ এ তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। যেসব স্নেহ পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে গ্লিসারল ও ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায় সেগুলো সরল স্নেহ। এ ধরনের স্নেহ মেদকলা, চামড়ার নিচে ও যকৃতে পাওয়া যায়। আর যে সকল স্নেহ পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে গ্লিসারল ও ফ্যাটি এসিড ছাড়া অন্যান্য উপাদান যেমন- ফসফরিক এসিড, শর্করা ও নাইট্রোজেন বিশিষ্ট উপাদান পাওয়া যায় সেগুলো যৌগিক ফ্যাট। যেমন- ফসফোলিপিড, লাইপোপ্রোটিন, গ্লাইকোলিপিড। সরল ও যৌগিক স্নেহ থেকে উৎপন্ন কিছু ফ্যাট, স্টেরয়েড প্রভৃতি উদ্ভূত ফ্যাটের অন্তর্ভুক্ত। যেমন- ভিটামিন এ, ডি, ই কে প্রভৃতি।

স্নেহ পদার্থের প্রধান অংশ ফ্যাটি এসিড। এই ফ্যাটি এসিডের ওপর ভিত্তি করে স্নেহকে অসম্পৃক্ত এবং সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড এ দু ভাগে ভাগ করা হয়। যে ফ্যাটি এসিডের কার্বন অণুগুলোতে আরও হাইড্রোজেন অণু গ্রহণ করার অবকাশ থাকে সেগুলোকে অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড বলে। কড প্রভৃতি সামুদ্রিক মাছের তেলে অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড থাকে। যেসব ফ্যাটি এসিডের কার্বন অণুগুলো হাইড্রোজেন অণুতে পরিপূর্ণভাবে সম্পৃক্ত থাকে সেগুলোকে সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড বলে। যেমন- চর্বি, মাখন, পাম অয়েল ইত্যাদি।

5 views

Related Questions