1 Answers
উদ্দীপকের বাবুর্চি জহির যা করেছে, তা রীতিমতো অন্যায় বা হারাম। আর বাবুর্চির কাজের বিষয়টি জানতে পেরে আলিম সাহেব বাবুর্চির ওপর অসন্তুষ্ট হন এবং বলেন, "হারাম খাদ্য, পানীয় এবং বস্তু ইসলামে অবশ্যই পরিত্যাজ্য।" আলিম সাহেবের এ বক্তব্য যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি। পৃথিবী মানুষের জন্য একটি পরীক্ষাগার। এখানে তার অবস্থান স্বল্পকালের জন্য। আর আখিরাত মানুষের স্থায়ী আবাসস্থল। সেখানকার জীবন চিরস্থায়ী। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে মানুষকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে আল্লাহ তায়ালা মানুষের জন্য কিছু কিছু বস্তু হারাম করেছেন, আর কিছু কিছু বস্তু হালাল করেছেন। আল্লাহ জানেন, এ পৃথিবীর কোন বস্তু মানুষের দেহ, মন, মস্তিষ্ক এবং আত্মার জন্য কল্যাণকর আর কোন বস্তু অকল্যাণকর, কোন জিনিস তাদের উপকার সাধনকারী আর কোন জিনিস ক্ষতিকারক।
এজন্যে হারাম খাদ্য, পানীয় এবং বস্তু অবশ্যই পরিত্যাজ্য। কোনো কোনো খাদ্য ও পানীয়ের মধ্যে এমন সব উপাদান থাকে যা সুস্থ মস্তিষ্কে বিকৃতি ঘটায়, উন্মাদনা সৃষ্টি করে এবং মানুষের স্মৃতিশক্তি লোপ করে দেয়। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, হিংস্র প্রাণীর দেহে এমন সব জীবাণু আছে যা মানুষের দেহের জন্য ক্ষতিকর। কাজেই তা আমাদের জন্য হালাল হতে পারে না। এছাড়া হারাম খেলে মন্দ অভ্যাস ও অসচ্চরিত্রতা সৃষ্টি হয়, ইবাদতে আগ্রহ থাকে না এবং দোয়া কবুল হয় না। এ কারণেই আল্লাহ নবি- রাসুলগণকে হালাল খাদ্যের প্রতি অনুপ্রাণিত করে বলেন, “হে রাসুলগণ! পবিত্র বস্তু হতে আহার করুন এবং সৎকাজ করুন। আপনারা যা করেন সে বিষয়ে আমি পরিজ্ঞাত।" (সূরা আল-মু'মিন: ৫১)
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে আলিম সাহেবের বক্তব্য যথার্থ হয়েছে। আমাদের উচিত হালাল খাদ্য গ্রহণ করা এবং হারাম খাদ্য বর্জন করা। এমনকি হারাম খাদ্য গ্রহণে সবাইকে নিরুৎসাহিত করা।