1 Answers
হাসানের দানে যাকাত আদায় হয়নি। তবে নফল সদকা আদায় হয়েছে।
যাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো পবিত্রতা, পরিশুদ্ধতা ও বৃদ্ধি পাওয়া। আর ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো মুসলিম নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে বছরান্তে তার সম্পদের শতকরা ২.৫০ হারে নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করাকে যাকাত বলে। নিসাব হলো ন্যূনতম সম্পদ, যা থাকলে যাকাত ফরজ হয়। এ ক্ষেত্রে যাকাত প্রদানে ধনীর সম্পদ পবিত্র, পরিশুদ্ধ ও বৃদ্ধি পায়। তাই একে যাকাত বলা হয়। ইসলামের দৃষ্টিতে যাকাত গরিবের প্রতি ধনীর দয়া নয় বরং এটা গরিবের অধিকার। তাই আল্লাহ যাকাত আদায় করাকে আবশ্যক করেছেন।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন - أَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزكاة
অর্থ: "তোমরা সালাত কায়েম কর ও যাকাত আদায় কর।" (সূরা আন-নূর: ৫৬)
প্রদত্ত উদ্দীপকের হাসান নিসাবের মালিক হওয়া সত্ত্বেও হিসাব ছাড়াই গরিব-মিসকিনদের সাহায্য-সহযোগিতা করেন। ইমাম সাহেব তার এ ধরনের দানের কথা শুনে তাকে বলেন, "সম্পদশালী ব্যক্তিদের উচিত অবশ্যই আল্লাহর নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী দান করা।” মূলত ইমাম সাহেবের বক্তব্যটি যথার্থ। কেননা প্রত্যেক ফরজ ইবাদতেরই একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। যাকাতেরও একটি সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। আর তা হলো সাহিবে নিসাবকে বছরান্তে হিসাব করে সম্পদের ২.৫% হারে আল্লাহর নির্ধারিত ৮টি খাতে ব্যয় করা।
সুতরাং এ দৃষ্টিকোণ থেকে ইমাম সাহেবের বক্তব্যটি যথার্থ ও বাস্তবসম্মত হয়েছে।