1 Answers

জুলহাসের কর্মকাণ্ডে "ঘুষ প্রদান” বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

জুলহাস চাকরির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক কর্মকর্তাকে দুই লক্ষ টাকা প্রদান করে, যা উৎকোচ বা ঘুষ হিসেবে গণ্য হয়। এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। আমাদের দেশে বর্তমানে এভাবে ঘুষ প্রদানের প্রবণতা দিনকে দিন প্রবল হচ্ছে। আর এভাবে চাকরি নিয়ে তারা ঘুষ হিসেবে প্রদানকৃত টাকা উঠানোর জন্য জনগণের সম্পদ লুটে নিচ্ছে, দুর্নীতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ করছে না। ফলে অফিসগুলোতে গিয়ে জনগণ নানা হয়রানির শিকার হচ্ছে এবং ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছে।

ইসলামে ঘুষ প্রদান ও গ্রহণ উভয়টি হারাম। এজন্য কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। মহানবি (স.) বলেছেন, "ঘুষদাতা ও ঘুষখোর উভয়েই জাহান্নামী।” (তাবারানি)

জুলহাসের ঘুষ প্রদানের বিষয়টি জেনে ইমাম সাহেব বলেন, এভাবে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে চাকরি পাওয়া ইসলামের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং সারাজীবন এর ফল ভোগ করতে হবে। ইমাম সাহেবের বক্তব্যটি যথার্থ। কারণ ঘুষ প্রদান করে চাকরি নেওয়া ইসলামে বৈধ নয়। সাধারণত শিক্ষিত সুস্থ-সবল এবং আর্থিকভাবে সংগতিসম্পন্ন লোকেরাই ঘুষ দিয়ে চাকরি নেয়। এসব লোকেরা যদি তাদের শারীরিক ও মেধা শক্তি এবং আর্থিক ক্ষমতার সমন্বয় করে হালাল উপায়ে আয় রোজগার করার চেষ্টা করতেন, তাহলে অবশ্যই তারা সেখানে সফল হতেন। কিন্তু তারা জেনে শুনেই অন্যায় পথে নিজেদের পরিচালিত করছেন এবং পরবর্তীতে অন্যকে এ পথে পরিচালিত হতে বাধ্য করছেন। আর যতদিন তারা চাকরি করেন এ অন্যায় পথেই তারা অগ্রসর হয়। ফলে এর প্রভাব সারাজীবনই চলতে থাকে। তবে প্রকৃত সত্য হলো এ অন্যায় পথ থেকে জীবনে সুখী হওয়া যায় না। এর অসংখ্য দৃষ্টান্ত আমাদের সমাজে রয়েছে। এছাড়া পরকালে জাহান্নামে যেতে হবে এটা একেবারেই নিশ্চিত। তাই এর ফল ভোগ ইহকাল ও পরকাল সব জায়গাই চলবে।

4 views

Related Questions