1 Answers

উদ্দীপকে বর্ণিত হাদিসটি আমাদেরকে বৃক্ষরোপণ ও কৃষিকাজে উৎসাহিত করে। যদিও বৃক্ষরোপণ ও কৃষিকাজের মতো অতি প্রয়োজনীয় কাজকে প্রচলিত সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে খানিকটা হেয় করে দেখা হয়। কিন্তু হাদিসের মূল শিক্ষা হচ্ছে শ্রমের মর্যাদা, বৃক্ষরোপণ, কৃষিকাজ এবং সৃষ্টিজীবের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে উদ্বুদ্ধকরণ। আর্থসামাজিক উন্নয়নে হাদিসটির তাৎপর্য নিচে তুলে ধরা হলো-

১. পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি: মহানবি (স.)-এর এ হাদিস আমাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী বক্তব্য। এ হাদিসে আমাদেরকে শ্রমের প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। কথায় আছে, “পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি।” কোনো অলস জাতি আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে উন্নতি লাভ করতে পারে না। পক্ষান্তরে, পরিশ্রমী জাতি উৎপাদনমুখী কর্মকান্ডের দিকে ঝুঁকে পড়লে আর্থসামাজিক উন্নয়ন অবশ্যম্ভাবী।

২. সুস্থ-সুন্দর জাতি : বৃক্ষ আমাদের জন্য অতি প্রয়োজনীয়। বৃক্ষ খাদ্য দেয়, ছায়া দেয়, আশ্রয় দেয়, অক্সিজেন দেয়, পরিবেশ সুন্দর ও দূষণমুক্ত রাখে। সর্বোপরি, বৃক্ষের কাছে আমাদের প্রয়োজন অনেক। সুস্থ-সুন্দর জাতি বিনির্মাণে বৃক্ষ যেমন ভূমিকা পালন করে, তেমনি সুস্থ-সুন্দর জাতি আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম।

৩. নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন : আমাদের জীবনধারণের অনেক উপাদান আমরা কৃষিকাজের মাধ্যমে পেয়ে থাকি। আমাদের খাদ্যবস্তুসহ আরও বহু প্রয়োজনীয় জিনিসের প্রয়োজনে আমরা কোনো না কোনো উপায়ে কৃষির ওপর নির্ভর করে থাকি। কৃষিকাজের মাধ্যমে যে ফসল আমরা উৎপাদন করি তা আমাদের ও অন্য জীবজন্তুর জীবন রক্ষায় মুখ্য ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি বাড়তি কৃষিপণ্য যেমন শাকসবজি বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়।

পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত হাদিসটি আমাদের কৃষিকাজ ও বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করে। আমরা অধিক পরিমাণে বৃক্ষরোপণ করব, তার যত্ন নেব, খেতখামারে অধিক ফসল ফলানোর চেষ্টা করব এবং এর বিনিময়ে যেমন আল্লাহর পক্ষ থেকে সওয়াবের অধিকারী হব, তেমনি নিজের ও দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।

4 views

Related Questions