1 Answers
উদ্দীপকে শেষ অংশে বর্ণিত সম্পদটি হলো বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক সম্পদ প্রাকৃতিক গ্যাস।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রাকৃতিক গ্যাসের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রাকৃতিক গ্যাস দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সম্পদ। দেশের মোট বাণিজ্যিক জ্বালানির প্রায় ৭৩ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস পূরণ করে। বাংলাদেশে এ যাবৎ আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের সংখ্যা ২৫টি। এর সম্ভাব্য ও প্রমাণিত মজুদের পরিমাণ ২৭.০৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে ১৯টি গ্যাসক্ষেত্রের ৮৩টি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলিত হচ্ছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের নানাবিধ ব্যবহার এদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে। প্রাকৃতিক গ্যাস গৃহস্থালী, হোটেল-রেস্তোরা, শিল্প-কারখানা ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের আশুগঞ্জ, ঘোড়াশাল, সিদ্ধিরগঞ্জ ও শাহজীবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়। দেশে উত্তোলিত গ্যাসের ৪৪ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগে। এছাড়াও সিমেন্ট, প্লাস্টিক, রাবার, কীটনাশাক কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে গ্যাস ব্যবহৃত হয়। উত্তোলিত গ্যাসের ২১ শতাংশ সার কারখানায় ব্যবহৃত হয়। যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম বিভিন্ন পরিবহনে বাস, ট্রাক, ট্যাক্সি, প্রাইভেট কার ইত্যাদিতে জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়। সুমনের মামার ভাষ্যমতে এ প্রাকৃতিক সম্পদ গ্যাসের গুরুত্বকেই বোঝানো হয়েছে।
উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে অন্যতম জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাসের ভূমিকা অপরিসীম। এজন্য প্রাকৃতিক গ্যাসের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।