1 Answers
নূর হোসেনের বাবা ইসলামের ভিত্তি সম্পর্কিত যে হাদিসটি উল্লেখ করেছিলেন সে হাদিসটি হলো- “ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই, মুহাম্মদ (স.) তাঁর রাসুল এবং সালাত প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত প্রদান করা, হজ করা এবং রমযানের রোযা রাখা।” (বুখারি ও মুসলিম)
উপরিউক্ত হাদিসটিতে উল্লিখিত ইসলামের পঞ্চ বুনিয়াদ বা মূলভিত্তিসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
১ তাওহিদ ও রিসালাতে বিশ্বাস : ইসলামের মূলভিত্তিগুলোর মধ্যে প্রথম ও প্রধান ভিত্তি হলো তাওহিদ ও রিসালাতে বিশ্বাস। আর এর অর্থ হলো আল্লাহর একত্ববাদ এবং রাসুল (স.)-এর নবুয়তের স্বীকৃতি। প্রত্যেক মুমিন-মুসলিমের একথার স্বীকৃতি দিতে হবে যে, আল্লাহ ছাড়া অন্যকোনো ইলাহ নেই এবং হযরত মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর প্রেরিত রাসুল।
২. সালাত কায়েম : একজন মানুষ যখন আল্লাহর প্রভুত্ব, সার্বভৌমত্ব ও হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর নবুয়তকে স্বীকার করে তখন সর্বপ্রথম প্রতিদিন তাঁর ওপর পাঁচটি নির্দিষ্ট সময়ে পাঁচবার সালাত প্রতিষ্ঠা করার কর্তব্য আরোপিত হয়।
৩. যাকাত আদায়: কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মস্তিষ্ক, স্বাধীন ব্যক্তির নিকট বছরান্তে সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ তোলা রৌপ্য কিংবা এ পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার যাকাত দেওয়া ফরজ, যা সে আল্লাহ নির্ধারিত ৮টি খাতে ব্যয় করবে।
৪ . সিয়াম সাধনা বা রোযা রাখা : প্রতিটি মুমিনের ওপর রমযান মাসে সিয়াম সাধনা বা রোযা রাখা আবশ্যক। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে সংযম, আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক জীবনের উৎকর্ষ সাধিত হয়। সর্বোপরি তাকওয়া অর্জন করা যায়।
৫. হজ পালন: দৈহিক, আর্থিক ও পথের নিরাপত্তাসম্পন্ন মুমিনের জীবনে একবার বাইতুল্লাহ তথা কাবা শরিফে হজ পালন করা ফরজ। এ হজ পালনের দ্বারা তাঁর মধ্যে আল্লাহপ্রেম, বিশ্বমানবতার সাথে একাত্মতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।