1 Answers
কুরআন সংরক্ষণে উদ্দীপকের প্রথমোক্ত ব্যক্তি হলেন হযরত আবু বকর (রা.)। হযরত আবু বকর (রা.)-এর যুগে কুরআন মজিদ সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করা হয়। ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনায় আমরা জানতে পারি যে-
১. ইয়ামামার যুদ্ধে বহুসংখ্যক হাফিযে কুরআন শহিদ হওয়ার পর হযরত উমর (রা.) হযরত আবু বকর (রা.)-এর নিকট কুরআন মজিদ সংকলনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অতঃপর কুরআন মজিদ একত্রে সন্নিবেশ করে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে হযরত আবু বকর (রা.) বিশিষ্ট ওহি লেখক যায়িদ ইবন সাবিতকে কুরআন সম্পাদনার দায়িত্ব প্রদান করেন।
২ হযরত আবু বকর (রা.)-এর নির্দেশে যায়িদ ইবন সাবিত কুরআনের লিখিত পাণ্ডুলিপির বিচ্ছিন্ন অংশসমূহ সংগ্রহ করেন এবং হাফিযদের সহযোগিতায় পাণ্ডুলিপিগুলো ধারাবাহিকভাবে বিন্যস্ত করেন।
৩. যায়িদ ইবন সাবিত (রা.) কর্তৃক পাণ্ডুলিপিগুলো বর্তমান কুরআনের রূপে বিন্যস্ত করার পর হযরত আবু বকর (রা.) নিজ দায়িত্বে কুরআন মজিদ সংরক্ষণ করেন। তাঁর ইন্তেকালের পর হযরত উমর (রা.) কুরআন মজিদ সংরক্ষণ করেন। হযরত উমর (রা.)-এর ইন্তেকালের পর রাসুল (স.)-এর স্ত্রী বিবি হাফসার নিকট সংকলিত কুরআনের কপিটি সংরক্ষিত থাকে।
এভাবে প্রথমোক্ত ব্যক্তি অর্থাৎ হযরত আবু বকর (রা.) কুরআন মজিদ সংরক্ষণ করে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কুরআনের ব্যাপারে সকল সন্দেহ, সংশয় ও বিতর্কের পথ বন্ধ করে দেন। তাইতো হযরত উসমান, (আ.)-এর সময়ে কুরআন তিলাওয়াতে বিভিন্ন জায়গায় ভিন্নতা দেখা দিলে আবু বকর (রা.)-এর সংকলিত কুরআন সে সমস্যার সমাধান করে দেয়। কুরআন মজিদ-এর বিশুদ্ধতা মহাপ্রলয়ের দিন পর্যন্ত অটুট থাকবে। কেননা আল্লাহ নিজেই বলেছেন, "আমিই কুরআন নাজিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।"