1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত মওলানা নূরুল ইসলাম সাহেবের সাথে আমাদের পাঠ্যবইয়ের ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর মিল রয়েছে। ইমাম আযম আবু হানিফা (র.) গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন যুগশ্রেষ্ঠ আলিম, আবিদ ও বুদ্ধিমান। ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর ছাত্র ইয়াযিদ বিন হারুন বলেন, আমি হাজার হাজার জ্ঞানী দেখেছি, তাদের বক্তব্য শুনেছি। এর মধ্যে পাঁচ জনের মতো জ্ঞানী, খোদাভীরু ও ইলমে ফিক্হ-এ পারদর্শী কাউকে দেখে নি। তাঁদের মধ্যে ইমাম আবু হানিফা (র.) হচ্ছেন অন্যতম। ইমাম শাফেয়ি (র.) বলেছেন, মানুষ ফিকাহশাস্ত্রে ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর পরিবার।
ইমাম বুখারির প্রিয় শিক্ষক হযরত মক্কি বিন ইব্রাহিম বলেন, "ইমাম আবু হানিফা তাঁর কথা ও কাজে সত্যনিষ্ঠ ছিলেন।” তিনি এত বেশি ইবাদত করতেন যা চিন্তা করাও কঠিন। তিনি এতই আল্লাহ ভীরু ছিলেন যে, কুফায় ছাগল চুরির কথা শোনার পর তিনি সাত বছর যাবৎ বাজার থেকে ছাগলের গোস্ত ক্রয় করেন নি; এ ভয়ে যে এটি চুরিকৃত ঐ ছাগলের গোস্ত হতে পারে। তিনি বিনা পয়সায় জ্ঞান বিতরণ করতেন। কাপড় ব্যবসায় করে জীবনযাপন করতেন।
তৎকালীন বাগদাদের খলিফা আল মনসুর ইমাম আবু হানিফা (র.)-কে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নিতে প্রস্তাব দিলে তিনি তা গ্রহণ করেন নি। ফলে তাঁকে জেলখানায় আবদ্ধ করে রাখা হয়। বলা হয় যে, এ মহান মনীষী ১৫০ হিজরি ৭৬৭ খ্রিষ্টাব্দে খলিফার নির্দেশে প্রয়োগকৃত বিষক্রিয়ার প্রভাবে ইন্তেকাল করেন। সরকার 'কর্তৃক দেওয়া সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাখ্যান করে ইমাম আবু হানিফা নৈতিক ও দীনি ইলমের মর্যাদা সুমন্নত রেখেছেন।