1 Answers
উদ্দীপকের মনজুর যে বিষয়টির অনুসরণ অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছে, সে বিষয়টি হলো ইসলামি শরিয়ত। ইসলামি শরিয়তের যেসব উৎস রয়েছে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
১. প্রথম উৎস: শরিয়তের প্রথম ও প্রধান উৎস হচ্ছে কুরআন মজিদ। এটি শরিয়তের অকাট্য দলিল। এর ওপর শরিয়তের মূল কাঠামো দন্ডায়মান। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন-
وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْ
অর্থ: "আমি আপনার প্রতি কিতাব নাজিল করেছি প্রত্যেক বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ। (সূরা আন-নাহল: ৮৯)
২. দ্বিতীয় উৎস: শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস হচ্ছে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নাহ। ইসলামের মূলনীতিগুলো কুরআনে সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে। রাসুল (স.)-এর সুন্নাহ বা হাদিস দ্বারা তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, "রাসুল (স.) তোমাদের জন্য যা দিয়েছেন তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেছেন তা বর্জন কর।” (সূরা আল-হাশর: ৭)
৩ . তৃতীয় উৎস: শরিয়তের তৃতীয় উৎস হচ্ছে ইজমা বা উম্মতের ঐক্যমূলক সিদ্ধান্ত। কোনো বিষয়ে ইসলামি চিন্তাবিদদের ঐকমত্য পোষণ করাকে ইজমা বলে। ইজমা কুরআন-সুন্নাহ সমর্থিত হওয়া আবশ্যক। আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মদ (স.)-এর উম্মতকে এমন এক মর্যাদাদান করেছেন যে, এ উম্মতের মুমিন ব্যক্তিগুণ যদি কোনো বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন তবে তাঁদের বিরোধিতা করা চরম অপরাধ।
৪ . চতুর্থ উৎস : মানবজীবন 'গতিশীল। তাই মানবসমাজে নিত্যনতুন সমস্যার উদ্ভব ঘটবে। কুরআন, সুন্নাহ অথবা ইজমার মধ্যে যদি এর সমাধান খুঁজে পাওয়া না যায়, তখন কিয়াসের আলোকে তার সমাধান করতে হবে। কিয়াস হবে কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমার মূলনীতির অনুরূপ।
পরিশেষে বলা যায়, ইসলামি শরিয়তের মূল উৎস চারটি। তবে প্রকৃত বিবেচনায় তা দুটি। কেননা ইজমা ও কিয়াস কুরআন ও সুন্নাহর বাইরের কোনো বিধান নয় বরং কুরআন ও সুন্নাহর নীতির আলোকে যুগোপযোগী ও সর্বজনীন পদ্ধতিমাত্র। ইসলামি শরিয়তের অনুসরণের ক্ষেত্রে আমরা এসব উৎসকে বিবেচনা করব।