1 Answers

জিসান সাহেবের কাজটি পাঠ্যবইয়ের ৭নং হাদিসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। হাদিসটি হলো-

الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ لَا يَظْلِمُهُ وَلَا يُسْلِمُهُ وَمَنْ كَانَ فِي حَاجَةِ أَخِيهِ كَانَ اللَّهُ فِي حَاجَتِهِ

অর্থ : “এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। সে তার ভাইয়ের ওপর অত্যাচার করে না, তাকে শত্রুর হাতে সোপর্দ করে না। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট হয়, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করে দেন।" (বুখারি ও মুসলিম)

এ হাদিসে মহানবি (স.) এক মুসলমানের সাথে অপর মুসলমানের সম্পর্ক কী এবং একের প্রতি অপরের কর্তব্যই বা কী তা আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন, মুসলমানরা পরস্পর ভাই ভাই। সুতরাং ভাইয়ের কর্তব্য হলো অপর ভাইকে তার বিপদাপদে সাহায্য করা এবং শত্রুর আক্রমণ ও নির্যাতন থেকে রক্ষা করা। জিসান সাহেব তার এলাকার জারিফকে সন্ত্রাসীরা ধাওয়া করলে সে তার কাছে আশ্রয় চায়। জিসান সাহেব তাকে আশ্রয় দেন। তখন সন্ত্রাসীরা তাকে ফেরত চাইলে তিনি তাকে তাদের হাতে ফেরত দিতে অস্বীকার করেন। এ কাজের মাধ্যমে তিনি উক্ত হাদিসের ওপর আমল করেছেন।

অতএব, কোনো মুসলমানকে অত্যাচার করা যাবে না এবং যতই অপরাধ করুক না কেন তাকে কোনো অবস্থাতেই শত্রুর হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। আপন ভাইয়ের বিপদের সময় অপর ভাই যেমন সাহায্য করতে এগিয়ে আসে, তেমনি এক মুসলমান ভাইও অপর মুসলমান ভাইয়ের বিপদাপদ দূর করতে সম্ভাব্য সকল উপায়ে সাহায্য করবে। তাহলে আল্লাহর সাহায্য পাওয়া যাবে। এ মর্মে রাসুল (স.) ইরশাদ করেন- “আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর বান্দাকে সাহায্য করতে থাকেন যতক্ষণ পর্যন্ত সে কোনো মুসলমান ভাইয়ের সাহায্যে লিপ্ত থাকে।” (মুসলিম)

পরিশেষে বলা যায়, আল্লাহর সাহায্য পেতে হলে অপর মুসলমান ভাইয়ের সাহায্য করা একান্ত কর্তব্য। অন্য কথায় একজন মুসলিম অন্য মুসলিমের নিরাপত্তার প্রতীক এবং বিপদে-আপদে সম্ভাব্য সহযোগী শক্তি।

5 views

Related Questions