1 Answers

উদ্দীপকের সর্বশেষ উক্তিটি হলো- "আখিরাতে বিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং অবিশ্বাসীদের জন্য বিপর্যয়।"

আমরা জানি, আখিরাতের বিশ্বাস মানুষকে সৎকর্মশীল করে তোলে। কারণ সে বিশ্বাস করে, দুনিয়ার কাজকর্মের জন্য তাকে আখিরাতে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। ভালো কাজের জন্য তাকে পুরস্কৃত করা হবে আর মন্দকাজের জন্য তাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে।

যে ব্যক্তি আখিরাতে বিশ্বাস করে না, দুনিয়ার জীবনই যার কাছে গুরুত্বপূর্ণ, যার অন্তরে আল্লাহ তায়ালার ভয় নেই, সে যেকোনো পাপে লিপ্ত হতে পারে। কাজেই আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে পূতপবিত্র রাখে। যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে এবং তদনুযায়ী আমল করবে তারা লাভ করবে জান্নাত। জান্নাত পরম সুখ-শান্তির স্থান। সেখানে রোগ-শোক, জরা-মৃত্যু বা কোনো অশান্তি নেই। জান্নাতে থাকবে স্বর্ণখচিত আসন, রেশমের আস্তরবিশিষ্ট ফরাশ, কণ্টকহীন কুলবৃক্ষ, কাঁদি ভরা কদলীবৃক্ষ, সম্প্রসারিত ছায়া, স্বচ্ছ পানির স্রোতধারা, চির সুস্বাদু দুধের প্রবাহ, বিশুদ্ধ মধুর নহরসমূহ এবং সর্বপ্রকার আনন্দ উপভোগের বস্তু। যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাদের চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে। আখিরাতে অবিশ্বাসী মানুষ লাভ করবে জাহান্নাম। জাহান্নাম বড়ই কষ্টের স্থান। সেখানে প্রজ্বলিত আগুন রয়েছে, যা শরীরের মাংস হাড় থেকে পৃথক করে দেবে। আবার সৃষ্টি হবে নতুন মাংস ও চামড়া। এভাবে অনন্তকাল শাস্তি হতে থাকবে। জাহান্নামে অসংখ্য বিষাক্ত সাপ ও বিষধর বিচ্ছু থাকবে, যা জাহান্নামিদের দংশন করবে। জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে কখনো রেহাই পাওয়া যাবে না। 

আল্লাহ তায়ালা বলেন-  

ثُمَّ لَا يَمُوتُ فِيهَا وَلَا يَحْيَ

অর্থ : “এরপর জাহান্নামিরা (জাহান্নামে) মরবেও না এবং জীবিতও থাকবে না।” (সূরা আল-আ'লা : ১৩)

জাহান্নামের আগুনের দাহন ক্ষমতা দুনিয়ার আগুনের সত্তর গুণ বেশি হবে। জাহান্নামিদের কাঁটাদার যাক্কুম বৃক্ষ (ফণীমনষা) খেতে দেওয়া হবে। পান করার জন্য দেওয়া হবে খুব গরম পানি।

তাই বলা যায়, আখিরাতে বিশ্বাস মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। আর অবিশ্বাসীদের জন্য বয়ে আনে দুর্ভোগ।

5 views

Related Questions