1 Answers
উদ্দীপকে কামালের বাবা সাবেকি যুক্তিবিদ্যা এবং প্রতীকী যুক্তিবিদ্যার সংজ্ঞা পর্যালোচনা করে এই মন্তব্য করেন যে, সাবেকি যুক্তিবিদ্যা ও প্রতীকী যুক্তিবিদ্যার মধ্যে যে পার্থক্য তা গুণগত নয়, সে পার্থক্য কেবল মাত্রাগত। ভাষাগতভাবে সাবেকি যুক্তিবিদ্যা যুক্তির বৈধতা-অবৈধতা প্রমাণ করে। অন্যদিকে, প্রতীকী যুক্তিবিদ্যায় প্রতীকের সাহায্যে যুক্তির বৈধতা-অবৈধতা প্রমাণ করে। প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা ও সনাতনী যুক্তিবিদ্যার মূল লক্ষ্য ও বিষয়বস্তু অভিন্ন। অশুদ্ধ বা অবৈধ যুক্তিকে শুদ্ধ বা বৈধ যুক্তি থেকে আলাদা করা উভয়েরই প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু সাধারণ ভাষার অস্পষ্টতা, দ্ব্যর্থকতা ও দুর্বোধ্যতার কারণে ভাষায় যুক্তির প্রকাশ ও মূল্যায়ন দুরূহ হয়ে ওঠে। কাজেই যুক্তিবিদ্যায় প্রতীকের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে পড়ে। সাধারণ ভাষা বা অপ্রতীকী ভাষা এবং প্রতীকী ভাষা উভয়ই যুক্তি প্রকাশের মাধ্যম ছাড়া অন্য কিছু নয়। প্রতীকী ও সনাতনী উভয় যুক্তিবিদ্যায় উভয় ভাষার কমবেশি ব্যবহার রয়েছে। কাজেই প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা ও সনাতনী যুক্তিবিদ্যার মধ্যে পার্থক্যের কোনো স্থির সীমারেখা টানা যায় না। যুক্তিবিদ কপি বলেন, "যদিও আধুনিক ও প্রাচীন যুক্তিবিদ্যার মধ্যে পার্থক্যটা গুণগত নয়, বরং মাত্রাগত; তবু মাত্রাগত পার্থক্যটা বিস্ময়কর।"