1 Answers

উদ্দীপকের লিটনের শেষোক্ত উক্তির দ্বারা এটুকু স্পষ্ট যে, যুক্তিবিদ্যা এবং নীতিবিদ্যার মধ্যে বিভিন্ন সাদৃশ্য বিদ্যমান। যে সকল নিয়মের মাধ্যমে ন্যায় বা ভালো কাজ সম্পাদিত হয় সেসব নিয়ম আবিষ্কার করা যেমন নীতিবিদ্যার কাজ; তেমনি যে সকল নিয়মের উপর বৈধ বা সঠিক চিন্তন সম্পাদিত হয়, সে সকল নিয়ম, আবিষ্কার করাও হলো যুক্তিবিদ্যার কাজ। যুক্তিবিদ্যা সত্যের আদর্শকে সামনে রেখে নির্ভুল চিন্তার নিয়মাবলি সরবরাহ করে। একইভাবে নীতিবিদ্যা ঔচিত্যবোধের আদর্শকে সামনে রেখে মানুষের ঐচ্ছিক আচরণের মূল্যায়ন করে। যুক্তিবিদ্যার জ্ঞান বা শিক্ষা আমাদের নিজেদের চিন্তায় এবং অন্যের চিন্তায় কোথায় ত্রুটি আছে তা বুঝতে ও উপলব্ধি করতে সক্ষম করে। অন্যদিকে নীতিবিদ্যার জ্ঞান বা শিক্ষা আমাদের নিজেদের এবং অন্যের আচরণে কোথায় ত্রুটি আছে এবং তা কীভাবে ঠিক করতে হয় সে সম্পর্কে ফলপ্রসূ ইঙ্গিত প্রদান করে।অন্যদিকে নীতিবিদ্যা ভালোত্ব-মন্দত্ব, ঔচিত্য-অনৌচিত্যের আদর্শে মানুষের আচরণের ন্যায়ত্ব-অন্যায়ত্ব বিচার করে থাকে। যুক্তিবিদ্যা ও নীতিবিদ্যা উভয়েরই লক্ষ্য সত্য বা সত্যের আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করা। উভয়ই আমাদের সঠিক আচরণ করতে সহায়তা করে। যুক্তিবিদ্যা যেমন ভুল-ভ্রান্তি ধরিয়ে আমাদের সুযোগ করে দেয়, তেমনি নীতিবিদ্যা ভালোত্ব-মন্দত্বের উপলব্ধি সৃষ্টি করে আমাদের আচরণকে ভালো ও সৎ করতে সাহায্য করে। অর্থাৎ যুক্তিবিদ্যা ও নীতিবিদ্যা উভয়ই যথাযথ আচরণ করতে সাহায্য করে। তাই এদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।

4 views

Related Questions