1 Answers
উদ্দীপকের শেষোক্ত বক্তব্যে প্রতীক বা সংকেতের বিভিন্ন উপযোগিতা প্রকাশ পেয়েছে। কোনো কিছু নির্দেশ করা, বোঝা বা প্রকাশ করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য কোনো কিছুকে সংকেতরূপে ব্যবহার করা হলে, সে সংকেতকে 'প্রতীক' বলে। অর্থাৎ কৃত্রিম সংকেতের অপর নাম হলো প্রতীক। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সর্বত্রই প্রতীক বা সংকেতের প্রভাব লক্ষ করা যায়। শেষ রাতের 'আযানের ধ্বনি' বা 'পাখির কলরব' রাত ভোর হওয়ার সংকেত বহন করে। এক প্রকার 'ঘণ্টাধ্বনি' ক্লাস আরম্ভের, এক প্রকার 'ঘণ্টাধ্বনি' ক্লাস ছুটির এবং আর এক প্রকার 'ঘণ্টাধ্বনি' দরজায় দাঁড়ানো আগন্তুকের সংকেত বহন করে। এক প্রকার 'ডাক' (কুহু) কোকিলের উপস্থিতি, আর এক প্রকার ডাক (কা-কা) কাকের উপস্থিতি নির্দেশ করে। এক ধরনের মাথা নাড়ানো হচ্ছে 'মস্তিষ্ক বিকৃতি' এবং আর এক ধরনের মাথা নাড়ানো সম্মতির সংকেত। বড় রাস্তার মোড়ে 'তীর চিহ্নিটি' (→) হচ্ছে পরবর্তী রাস্তার নির্দেশ, আর রাস্তার পাশে হাত উঠানো হচ্ছে চলন্ত গাড়ি থামানোর সংকেত। এক ধরনের সাইরেন (Siren) 'আসন্ন বিপদ' এবং অন্য ধরনের সাইরেন 'বিপদ কেটে' যাওয়ার সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মাথায় 'টুপি', 'মুখে দাড়ি' এবং 'গায়ে পায়জামা-পাঞ্জাবি' হচ্ছে এক বিশেষ ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতীক, আর এক ধর্মীয় সম্প্রদায়ে কপালে সিঁদুর, হাতে শাঁখা হচ্ছে 'সধবা-র প্রতীক' এবং 'সিঁদুর মুছে ফেলা' বিধবার ইঙ্গিত বহন করে। কাজেই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতীক ও সংকেতের ব্যবহার অনেক বেশি।