উদ্দীপকে কামালের অনুমানের শেষোক্ত প্রক্রিয়া প্রথমটি থেকে কীভাবে পৃথক? বিশ্লেষণ কর। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
উদ্দীপকে কামালের অনুমানের শেষোক্ত প্রক্রিয়াটি বৈজ্ঞানিক আরোহের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ তার শেষোক্ত প্রক্রিয়া প্রথম বক্তব্য পূর্ণাঙ্গ আরোহ থেকে পৃথক। নিচে কামালের অনুমানের শেষোক্ত প্রক্রিয়া প্রথমটি থেকে যেভাবে পৃথক তা বিশ্লেষণ করা হলো-
⇨ পূর্ণাঙ্গ আরোহ অপ্রকৃত আরোহের একটি অংশ; কিন্তু বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃত আরোহের একটি গুরুত্বপূর্ণ' অংশ।
⇨ পূর্ণাঙ্গ আরোহের কার্যকারণ নেই; কিন্তু বৈজ্ঞানিক আরোহে কার্যকারণের উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
⇨ পূর্ণাঙ্গ আরোহে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে সব দৃষ্টান্ত পরীক্ষা করা হয়; কিন্তু বৈজ্ঞানিক আরোহে তার প্রয়োজন নেই।
⇨ পূর্ণাঙ্গ আরোহে সিদ্ধান্তের জন্য প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির উপর নির্ভর করতে হয় না; কিন্তু বৈজ্ঞানিক আরোহে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়।
⇨ পূর্ণাঙ্গ আরোহ যে বাক্য স্থাপন করে তার সন্দেহের অবকাশ থাকে; কিন্তু বৈজ্ঞানিক আরোহের ক্ষেত্রে এরকম কোনো অবকাশের সম্ভাবনা নেই।
⇨ পূর্ণাঙ্গ আরোহ বা তথাকথিত আরোহ সম্পর্কে মানুষের যে ধারণা থাকে তা স্পষ্ট নয়; কিন্তু বৈজ্ঞানিক আরোহ সম্পর্কে সর্বমহলে ধারণা স্পষ্ট থাকে বলে সবাই একে সানন্দে গ্রহণ করে।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, কোনো তথাকথিত সার্বিক যুক্তিবাক্যের অন্তর্গত একটি দৃষ্টান্ত পরীক্ষার পর সেই সার্বিক যুক্তিবাক্যটি স্থাপন করার পদ্ধতিকে পূর্ণাঙ্গ আরোহ বলে। যেমন- কামালের প্রথম বক্তব্য অনুযায়ী আলমাস বার্মিজ মার্কেটের প্রায় প্রত্যেক দোকানের বিক্রয়কর্মী বার্মিজ বংশোদ্ভূত। অপরপক্ষে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের উপর নির্ভর করে বিশেষ বিশেষ ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে যে সার্বিক সংশ্লেষণ বাক্য স্থাপন করা হয়, তাকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে। যেমন- কামালের শেষোক্ত বক্তব্য অনুযায়ী সে বেড়াতে গিয়ে দূরের পাহাড়ে মিনার সদৃশ একটি স্থাপনা দেখে সে বুঝতে পারে না। ফলে পাহাড়ের উপরে উঠে স্থাপনাটির চতুর্দিকে ঘুরে এর গঠনশৈলী ও চূড়ায় বাতি দেখে নিশ্চিত হয় এটি একটি আলোঘর। সুতরাং বলা যায়, কামালের অনুমানের শেষোক্ত প্রক্রিয়া প্রথমটি থেকে পৃথক।