1 Answers
আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে দায়িত্বশীল ও সৎকর্মশীল করে তোলে। ইহজীবনের আমল সম্বন্ধে সতর্ক করে তোলে। কারণ সে বিশ্বাস করে যে, ইহকালের মন্দকাজের জন্য পরকালে আল্লাহর কাছে তাকে জবাবদিহি করতে হবে। পরকালের শাস্তির ভয়ে মন্দকাজ থেকে সে বিরত থাকে, আর পুরস্কারের আশায় ভালো কাজে আগ্রহী হয়। এভাবে আখিরাতে বিশ্বাস মানব চরিত্রকে উন্নত করে। কাজেই রাজু মিয়া আখিরাত বা পরকাল সম্পর্কে সচেতন হলে আদর্শবান হতে পারত।
ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে নিফাক জঘন্যতম পাপ। কারণ মুনাফিকদের অন্তরে অবিশ্বাস ও অবাধ্যতা লুক্কায়িত থাকে। কুরআন মজিদে মুনাফিকদের মিথ্যাবাদী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাদের অপকীর্তির উল্লেখ করে একটি পূর্ণ সূরা অবতীর্ণ হয়েছে। পরকালে তাদের ভীষণ শাস্তি বর্ণনা করে আল্লাহ পাক বলেন-
إِنَّ الْمُنَفِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِج
অর্থ : “নিশ্চয়ই মুনাফিকদের স্থান জাহান্নামের নিম্নতম স্তরে।" (সূরা আন-নিসা: ১৪৫)
আমরা জানি, উদ্দীপকের রাজু মিয়া মিথ্যা বলে, ওয়াদা ভঙ্গ করে এবং আমানতের খিয়ানত করে। তার এ কর্মকান্ড তাকে মুনাফিক হিসেবে চিহ্নিত করবে। এমতাবস্থায় রাজু মিয়া পরকালে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে। কাজেই পরকাল বা আখিরাত সম্পর্কে রাজু মিয়ার যদি বিশ্বাস থাকত তাহলে সে মুনাফিকী তো করতই না। উপরন্তু তার মাঝে ভালো গুণের বিকাশ ঘটত। এভাবে আখিরাতের সচেতনতা তাকে আদর্শ মানুষে পরিণত করত, একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।