1 Answers

"সমাজের ধনী ব্যক্তিরা যদি উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের মতো হতো তাহলে অভাগীকে বৈষম্যের শিকার হতে হতো না।"- উক্তিটি যথার্থ। 

তৎকালীন হিন্দু সমাজে জাত-পাতের ঘৃণ্য রূপ প্রবলভাবে বিস্তার লাভ করে। শ্রেণিবৈষম্য মানুষকে মানবিকতা থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। আর মানবিকবোধ সম্পন্ন ব্যক্তিরা মানুষকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দেয়, সম্মান করেন, ভালোবাসেন।

উদ্দীপকের চেয়ারম্যান একজন মহৎ ও উদার প্রকৃতির মানুষ। তিনি মিথ্যা আভিজাত্যের গৌরবে মোহাবিষ্ট না থেকে সাধারণ দরিদ্র চাষিকে আদর-যত্ন করেছেন। তিনি স্ত্রীকে বোঝান যে সবাই তার মেহমান। তিনি স্ত্রীর আচরণের জন্য খয়ের আলীর কাছে দুঃখও প্রকাশ করেন। এখানে তার চেতনায় ভ্রাতৃত্ব, সাম্য ও মানবিকতার নিদর্শন ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে সামন্তপ্রভু ঠাকুরদাস মুখুয্যে ও অধর রায়ের নিষ্ঠুরতায় কাঙালী তার মায়ের সৎকার পর্যন্ত করতে পারেনি। কাঙালীকে তারা নিচু জাতের বলে ঘাড় ধরে বের করে দিয়েছে। কিন্তু ঠাকুরদাস ও অধর রায় যদি চেয়ারম্যান সাহেবের চেতনাকে ধারণ করত তবে অভাগীকে বৈষম্যের শিকার হতে হতো না।

'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ধনীরা বৈষম্যপূর্ণ মানসিকতার কারণে কাঙালীকে মায়ের সৎকারে সাহায্য করেনি। তারা যদি উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবের মতো মানবিক হতো তাহলে অভাগীকে শ্রেণিবৈষম্যের শিকার হতে হতো না। তার শেষ ইচ্ছা পূরণ হতো। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।

5 views

Related Questions