1 Answers
"অভাগীর আশা পূর্ণতা পাওয়ার জন্য রহিম চৌধুরীদের মতো মানুষ প্রয়োজন"- মন্তব্যটি যথার্থ।
অনেকে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করে। জাত-পাতের দোহাই দিয়ে অপেক্ষাকৃত দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সমাজের ধনিকশ্রেণি দাবিয়ে রাখে, যা মানবিকতার পরিপন্থী। তবে অনেকে এই জাত-পাতের অসারতা উপলব্ধি করে মানবিকতার জয়গানে নির্যাতিত মানুষকে মুক্তির পথ দেখান।
উদ্দীপকের রহিম চৌধুরী মানবতাবাদী মানুষ। তিনি অঢেল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েও সাধারণ জীবনযাপন করতে পছন্দ করেন। নিজের মেয়ের বিয়েতে আপামর গ্রামবাসীকে নিমন্ত্রণ করে সাম্যবাদী চেতনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কিন্তু 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে অসাম্য সমাজব্যবস্থা প্রতিভাত হয়েছে। জাতভেদ ও ধনী-দরিদ্রভেদ সেই সমাজকে কলুষিত করেছে।
'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের অভাগী সমাজে তথাকথিত নীচ জাতের স্বামী-পরিত্যক্তা এক নারী। একমাত্র সন্তান কাঙালীকে নিয়ে সে কোনোক্রমে জীবন চালায়। কিন্তু দারিদ্র্যের কশাঘাতে সে বিনা চিকিৎসায়ই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তার ইচ্ছা ছিল ছেলে কাঙালীর হাতের মুখাগ্নি নিয়ে স্বর্গবাসী হওয়া। কিন্তু শোষক জমিদার জাত-পাতের বিভেদ-বৈষম্য করে কাঙালীকে তার মায়ের শেষ ইচ্ছে পূরণ করতে দেয় না। এক্ষেত্রে উদ্দীপকের রহিম চৌধুরীর মতো মানবতাবাদী মানুষ থাকলে অভাগীর আশা পূর্ণতা পেত। তাই বলা যায়, মন্তব্যটি যথার্থ।