1 Answers

আসগর সাহেবের মধ্যে সততা, সদাচার, সুন্দর স্বভাব, মিষ্টি কথা ও উন্নত চরিত্রের সমাবেশ ঘটেছে। এ সবের মূলে রয়েছে নৈতিকতা। ইসলাম মানুষকে নৈতিকতা অবলম্বনের জন্য তাগিদ দেয়। ব্যক্তি ও সমাজ জীবন সুন্দর করতে হলে ইসলামের সুমহান আদর্শের আলোকে নৈতিক জীবন গড়ে তুলতে হবে। আর নৈতিকতার আদর্শ পুরুষ হলেন মহানবি (স.)। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে তাঁর আদর্শিক নৈতিকতার প্রত্যয়ন করে ঘোষণা করেন- "নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ (স.)-এর মধ্যে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে।" (সূরা আল-আহযাব: ২১) তাই রাসুল (স.)-এর সুন্নত বা আদর্শের অনুসরণের মাধ্যমে নৈতিকতা অর্জন করা যায়। আমরা সবাই এটা জানি- ইসলামি জীবন ব্যবস্থায় নৈতিকতার গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষকে ইমান ও নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়ার জন্য মহানবি (স.) প্রেরিত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, "আমি মহান নৈতিক গুণাবলিকে পরিপূর্ণতা দান করার জন্যই প্রেরিত হয়েছি।” (বুখারি)

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) নীতিবান লোককে পরিপূর্ণ মুমিন হিসেবে অভিহিত করে বলেন-

أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيْمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا

অর্থ : নৈতিকতার বিচারে যে লোকটি উত্তম মুমিনদের মধ্যে সেই পূর্ণ ইমানের অধিকারী। (তিরমিযি)

মানুষের নৈতিকতা যত উন্নত হবে, সে তত উত্তম মানুষে পরিণত হবে। এভাবে সে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল (স.)-এর প্রিয়পাত্র হয়ে যাবে। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) আরও বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই লোকটিই আমার নিকট অধিক প্রিয় যার আখলাক (নৈতিকতা) সবচাইতে সুন্দর" (বুখারি)। এমনিভাবে জনৈক ব্যক্তি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর নিকট জানতে চাইলেন মহান আল্লাহ মানুষকে অনেক কিছু দান করেছেন; এর মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান দান কোনটি? নবি করিম (স.) বললেন, "সবচেয়ে মূল্যবান দান সুন্দর চরিত্র।” তাহলে বোঝা গেল, আসগর সাহেব সুন্দর চরিত্রের অধিকারী হয়ে রাসুল (স.)-এর প্রিয় পাত্র হয়েছেন। আর যে ব্যক্তি রাসুল (স.)-এর প্রিয়, তিনি আল্লাহর ও প্রিয়। এর মাধ্যমে তিনি দুনিয়ার জীবনে সবার কাছ থেকে সম্মান ও মর্যাদা লাভ করবেন। পরকালে আল্লাহর - প্রিয় পাত্র হিসেবে চিরসুখের আবাসস্থল জান্নাতে প্রবেশ করবেন।

পরিশেষে বলা যায়, আসগর সাহেব নৈতিকতাসম্পন্ন একজন ব্যক্তি। তার চরিত্র সুন্দর ও পরিশীলিত। তিনি আল্লাহ ও রাসুল (স.)-এর প্রিয়ভাজন। আমাদের সবার উচিত নৈতিকতা অর্জন করে জীবনকে সুন্দর করা এবং কল্যাণময় ভবিষ্যত বিনির্মাণ করা।

4 views

Related Questions