1 Answers
শুষ্ককরণ বা রোদে শুকানো ছাড়াও হিমায়িতকরণ এবং রাসায়নিক দ্রব্য প্রয়োগের মাধ্যমে খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ করা যায়।
খাদ্য পচে যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বহুদিন যাবৎ অবিকৃত রাখার জন্য খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ করা হয়। খাদ্য সংরক্ষণ পদ্ধতির প্রথম শর্ত হলো খাদ্যমান বাজায় রাখা। হিমায়িতকরণ পদ্ধতিতে জীবাণু বংশ বৃদ্ধি ও এনজাইম ক্রিয়া করতে পারে না। এতে সহজে খাদ্য নষ্ট হয় না। নিম্নতাপে 'খাদ্যবস্তুর পানি জমে যায়। এ পদ্ধতিতে মাছ, মাংস, ডিম, ফলের রস ও অন্যান্য খাদ্য অবিকৃত অবস্থায় রাখা হয়। খাদ্যের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন তাপমাত্রায় খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়। যেমন- হিমাগারে ১৮০-২০° সে. তাপমাত্রায় আলু, পেঁয়াজ, আপেল এবং এই জাতীয় খাদ্যবস্তু বহুদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয়। পচনশীল খাদ্যদ্রব্য যেমন- মাছ, মাংস, দুধ প্রভৃতি ০০-৫° সে. তাপমাত্রায় অর্থাৎ হিমাঙ্কের নিচে রাখা হয়। চিনি, লবণ, সিরকা, তেল, রাসায়নিক দ্রব্য পটাসিয়াম মেটা সালফাইড, বেনজয়িক এসিড প্রভৃতির মাধ্যমে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ করা যায়। বিভিন্ন ধরনের মাছ লবণ দ্বারা সংরক্ষণ করা হয়। লবণ উক্ত মাছে কোনো ধরনের ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হতে দেয় না। বিভিন্ন ফল বা ফলের তৈরি আচার সরিষার তেলে ভিজিয়ে রাখলে তা বহুদিন যাবৎ অবিকৃত থাকে। জ্যাম, জেলি, আচার, মোরব্বা, মার্মালেড, স্কোয়াশ প্রভৃতি চিনির সাহায্যে সংরক্ষণ করা হয়। সবজি, পিকেলস প্রভৃতি খাদ্য ভিনেগারে রেখে সংরক্ষণ করা হয়। ভিনেগারে এসিটিক এসিড থাকে যা সংরক্ষিত দ্রব্যের অম্লতা বাড়িয়ে কিছু কিছু জীবাণুর বৃদ্ধি প্রতিহত করে।
উপরিউক্ত পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে খাদ্য সংরক্ষণ করে অনেকদিন পর্যন্ত রাখা যায়।