1 Answers

উদ্দীপকটিতে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ে ব্যতিরেকী পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়। 'ব্যতিরেকী পদ্ধতি একটি পরীক্ষণ পদ্ধতি।'- কথাটি বিশ্লেষণ করা হলো-

ব্যতিরেকী পদ্ধতিকে প্রধানত একটি পরীক্ষণ পদ্ধতি বলা হয়। কারণ এ পদ্ধতিতে এমন দুটি দৃষ্টান্তের প্রয়োজন হয়, যাতে শুধু একটি বিষয়ে পার্থক্য থাকবে কিন্তু আনুষঙ্গিক অবস্থাগুলো উভয় ক্ষেত্রেই এক বা অপরিবর্তিত থাকবে। কিন্তু দৃষ্টান্ত দুটিকে এরকম সুনির্দিষ্ট অবস্থায় পাওয়া সম্ভব হতে পারে যদি বিষয়টি আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। অর্থাৎ যা আমাদের আয়ত্তের মধ্যে, একমাত্র সেগুলোকেই কৃত্রিম উপায়ে একই অবস্থায় রেখে একটি দৃষ্টান্তে একটি বিষয়ের উপস্থিতি এবং অন্য দৃষ্টান্তে তার অনুপস্থিতি শুধু 'পরীক্ষণ পদ্ধতিতেই সম্ভব হয়। সহজ কথায়, ব্যতিরেকী পদ্ধতিতে যে ধরনের দৃষ্টান্তের প্রয়োজন হয়, ঠিক সে ধরনের দৃষ্টান্ত সরবরাহ করতে পারে একমাত্র পরীক্ষণই।

প্রকৃতিতে সাধারণত ঘটনাসমূহ জটিল অবস্থায় থাকে। তাই নিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় ব্যতিরেকী পদ্ধতির প্রয়োজনীয় দৃষ্টান্ত জোগান দিতে পারে না এবং এটা এই পদ্ধতির শর্তাবলিও পূরণ করাতে পারে না। যদি ব্যতিরেকী পদ্ধতির ক্ষেত্রে নিরীক্ষণ প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা হয়, তবে আনুষঙ্গিক অবস্থাসমূহ আমাদের নিয়ন্ত্রণে না থাকার জন্য এই পদ্ধতির প্রয়োগে অনুপপত্তির উদ্ভব ঘটে। কিন্তু পরীক্ষণ পদ্ধতির অন্তর্গত অবস্থাসমূহ সর্বাংশে আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে বলে আমরা ইচ্ছামতো একই অবস্থার সাথে কোনো বিষয় যোগ করে কোনো ঘটনা ঘটাতে পারি। অথবা কতগুলো অবস্থা থেকে একটিকে বাদ দিয়ে তার ফলাফল লক্ষ করতে পারি। আমরা জানি, ব্যতিরেকী পদ্ধতিতে কোনো ঘটনার আনুষঙ্গিক অবস্থানসমূহকে অপরিবর্তিত রেখে সদর্থক ও নঞর্থক দৃষ্টান্ত দুটির মধ্যে মাত্র একটি বিষয়ে পার্থক্য দেখাতে হয়। বস্তুত, এটি একমাত্র পরীক্ষা পদ্ধতির সাহায্যেই সঠিকভাবে পূরণ করা সম্ভব। এ জন্য ব্যতিরেকী পদ্ধতিকে মূলত একটি পরীক্ষণ পদ্ধতি বলে অভিহিত করা হয়।

4 views

Related Questions