1 Answers
উদ্দীপকে সবুজের মন্তব্যকে কার্যকারণ সম্পর্ক প্রমাণের ব্যতিরেকী পদ্ধতির যে দুটি বাস্তব মাধ্যম প্রয়োগ করে বর্ণনা করা যায়-
(ক) কারণ থেকে কার্য: "মশার দংশনের কারণেই যে ডেঙ্গু জ্বর হয় এবং ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের মলমূত্র বা তাদের ব্যবহার্য জিনিসপত্রের ছোঁয়া থেকে যে এ রোগ হয় না।"- এটি প্রমাণ করার জন্য একটি মশা নিরোধক ঘর তৈরি করা হলো। এই ঘরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর জামা-কাপড়, বিছানা ও অন্যান্য নোংরার সঙ্গে ঐ রোগের প্রতিষেধক গ্রহণ করেনি এমন কিছু ব্যক্তি বিশ দিন কাটাল এবং এ সময় তাদের সবাইকেই মশার আক্রমণ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা হলো। দেখা গেল, তাদের কারোরই ডেঙ্গু জ্বর হয়নি। পক্ষান্তরে, পরবর্তীতে পরীক্ষা করে দেখা গেল, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর রক্ত খাওয়া মশার দংশনে এদের কয়েকজনের ডেঙ্গু হয়েছে। সুতরাং এই দৃষ্টান্তের একমাত্র অমিল বিষয়ে 'মশার দংশন' নামক কারণ থেকে কার্য হিসেবে 'ডেঙ্গু জ্বর' এর ঘটনা নির্ণয় করা গেল। উল্লেখ্য, এখানে নঞর্থক দৃষ্টান্তে মশার কামড়ের অনুপস্থিতির সাথে ডেঙ্গু জ্বরের অনুপস্থিতি এবং সদর্থক দৃষ্টান্তে মশার কামড়ের উপস্থিতির সাথে ডেঙ্গু জ্বরের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়। অথচ উভয় ক্ষেত্রেই আনুষঙ্গিক অবস্থানসমূহ পরিলক্ষিত হয়।
(খ) কার্য থেকে কারণ: আবার ডেঙ্গু জ্বরের ঘটনা বা কার্যটি যে শুধু মশার দংশনের কারণ থেকেই সংক্রমিত হয়, অন্য কিছু থেকে নয়, এটা প্রমাণ করার জন্য এমন একটি ঘর তৈরি করা হলো, যে ঘরে মশা ঢুকতে পারে না। এরপর ঘরটিতে সরু তারের জাল দিয়ে দুটি প্রকোষ্ঠে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর রক্ত খাওয়া ১৫টি মশার সাথে এক ব্যক্তিকে থাকতে দেওয়া হলো। তাকে সাতটি মশা কামড়াল এবং চার দিন পর সে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলো। পক্ষান্তরে, মশাবিহীন অন্য প্রকোষ্ঠে ডেঙ্গু জ্বরে প্রতিষেধক নেয়নি এমন দুই ব্যক্তি তেরোটি রাত কাটাল, কিন্তু তাদের ডেঙ্গু জ্বর হলো না। এখানে সদর্থক ও নঞর্থক উভয় দৃষ্টান্তে আনুষঙ্গিক সবকিছু অপরিবর্তিত থাকলেও শুধু একটি ব্যাপারে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়, মশার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি, অর্থাৎ সদর্থক দৃষ্টান্তে মশার উপস্থিতির সাথে ডেঙ্গু জ্বরের উপস্থিতি এবং নঞর্থক দৃষ্টান্তে মশার অনুপস্থিতির সাথে ডেঙ্গু জ্বরের অনুপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ডেঙ্গু জ্বরের কারণ হলো মশার দংশন।
অর্থাৎ কারণ থোকে কার্য এবং কার্য থেকে কারণে গমনের ভিত্তিতে সবুজের মন্তব্যে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা যায়।