1 Answers
উদ্দীপকের ঘটনাগুলোতে কার্যকারণ সম্পর্ক প্রমাণের যে পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায় তা হলো যৌথ অন্বয়ী ব্যতিরেকী পদ্ধতি। নিচে এই পদ্ধতির সুবিধাগুলো বিশ্লেষণ করা হলো-
এক, অন্বয়ী পদ্ধতির মতো, নিরীক্ষণধর্মী পদ্ধতি হওয়ার কারণে এর প্রয়োগক্ষেত্র অনেক ব্যাপকতর। প্রকৃতির যেসব ঘটনাকে আমরা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারি না বলে পরীক্ষণ সম্ভব হয় না, সেসব ক্ষেত্রে বিনাবাধায় এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে 'অনুসন্ধানহীন ঘটনার কার্যকারণ সম্বন্ধ প্রমাণ করতে পারি।
দুই, যৌথ পদ্ধতি একটি নিরীক্ষণধর্মী পদ্ধতি বলে এটি সমান স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে কার্য থেকে কারণ এবং কারণ থেকে কার্য অনুমান করে যথাযথ সিদ্ধান্ত স্থাপন করতে পারে।
তিন, যৌথ অন্বয়ী ব্যতিরেকী পদ্ধতি নিরীক্ষণনির্ভর বলে এতে একটি ঘটনার কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কারের উদ্দেশ্যে আমরা কার্য থেকে কারণ এবং কারণ থেকে কার্য- এই উভয় দিক থেকে অগ্রসর হয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি।
চার, যৌথ অন্বয়ী ব্যতিরেকী পদ্ধতিটি আমাদের কোনো ঘটনার কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কারের ব্যাপারে বৈধ প্রকল্প গঠন করতে সাহায্য করে। এই পদ্ধতির সাহায্যে যথাযথভাবে প্রকল্প গঠন করা সম্ভব হয় বলেই আমরা সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি।
পাঁচ, অন্বয়ী ও ব্যতিরেকী পদ্ধতিকে যখন পৃথকভাবে প্রয়োগ করা হয়, তখন তাদের সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তার মাত্রা যে পর্যায়ে থাকে তার চেয়ে এ পদ্ধতির সিদ্ধান্তের মাত্রা অনেক বেশি নিশ্চয়তার স্তরে পৌঁছায়। কেননা অন্বয়ী ব্যতিরেকী পদ্ধতিতে দুই দিক থেকে একসাথে নিশ্চয়তা পাওয়া যায়। সদর্থক ও নঞর্থক দৃষ্টান্তগুচ্ছই এই নিশ্চয়তা দেয়। সদর্থক দৃষ্টান্তগুচ্ছের সিদ্ধান্তকে নঞর্থক দৃষ্টান্তগুচ্ছ আরও সুদৃঢ় করে।
ছয়, কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রকল্প গঠনে এ পদ্ধতিটি বেশ সহায়ক। ফলে এর মাধ্যমে যথার্থ প্রকল্প গঠন করা যায় বলে কার্যকারণ সম্পর্কেও এর মাধ্যমে আমরা সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি।
সাত, এ পদ্ধতিকে অন্বয়ী পদ্ধতির পরিবর্তিত উন্নত রূপ বলে আখ্যায়িত করা হয়। ফলে অন্বয়ী পদ্ধতিতে যেসব ত্রুটি রয়েছে, এ পদ্ধতির সাহায্যে তার অনেকগুলো দূর করা সম্ভব হয়।