1 Answers
সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে পরিবারের গঠন ও আকারের মধ্যে পরিবর্তন ঘটেছে।
আদিকাল থেকে মানুষ যখন দলবদ্ধ হয়ে বসবাস করতে শুরু করে তখন থেকে বিভিন্নভাবে বিভিন্নরকম পরিবার গড়ে ওঠে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নানা ধর্মাবলম্বী ও গোত্রের লোকদের মধ্যে বিবাহ সম্পর্কিত রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠানের পার্থক্যের ভিত্তিতে পরিবারেরে বিভিন্ন রূপ দেখা যায়।
উদ্দীপকে মাতৃবাস এবং নয়াবাস পরিবার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। এ দুটি পরিবার ব্যবস্থা ছাড়াও বাংলাদেশে আরো বিভিন্ন ধরনের পরিবার দেখা যায়। পিতৃপ্রধান পরিবারের ক্ষমতা ও নেতৃত্ব একজন পুরুষের ওপর ন্যস্ত থাকে। এই পরিবারে পুরুষের মাধ্যমে বংশ পরিচয় নির্ধারিত হয়। যখন বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রী স্বামীর পিতৃগৃহে বাস করে 'তখন তাকে পিতৃবাস পরিবার বলে।
স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের অবিবাহিত সন্তানদের নিয়ে গঠিত পরিবার হলো অণু পরিবার। আবার পরিবারের স্বামী-স্ত্রী, সন্তান তার বাবা-মা, ভাই- বোন এবং নিকট আত্মীয়স্বজন নিয়ে একত্রে বসবাস করে তখন তাকে যৌথ পরিবার বলে। আবার যখন স্বামী-স্ত্রী তাদের বিবাহিত সন্তান ও নাতি-নাতনি নিয়ে একত্রে বসবাস করে তখন তাকে বর্ধিত পরিবার বলে।
একজন পুরুষ ও একজন স্ত্রীলোকের বিবাহের মাধ্যমে যে পরিবার গড়ে ওঠে তা একক বিবাহভিত্তিক পরিবার। যদি কোনো পুরুষ একাধিক বিবাহ করে বা একের অধিক স্ত্রী নিয়ে বসবাস' করে তখন তাকে বহু স্ত্রী বিবাহভিত্তিক পরিবার বলে। যখন কোনো ব্যক্তি নিজের গোত্রের বাইরে বিয়ে করে তখন তাকে বহির্গোত্র বিবাহভিত্তিক পরিবার বলে। যখন কোনো ব্যক্তি নিজ গোত্রের মধ্যে বিয়ে করে তখন তাকে অন্তর্গোত্র বিবাহভিত্তিক পরিবার বলে। সুতরাং মাতৃবাস ও নয়াবাস ছাড়াও উপরে উল্লিখিত বিভিন্ন ধরনের পরিবার ব্যবস্থা বাংলাদেশের সমাজে বিদ্যমান।