1 Answers
উদ্দীপকে নীতিবিদ্যা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। যুক্তিবিদ্যার সাথে নীতিবিদ্যার বেশ কিছু বিষয়ে বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। কেননা যুক্তিবিদ্যা প্রধানত চিন্তা প্রক্রিয়ার সর্বাপেক্ষা উন্নতরূপ হিসাবে অনুমান বা যুক্তি নিয়ে আলোচনা করে। পক্ষান্তরে নীতিবিদ্যার মূল আলোচ্য বিষয় হলো মানুষের আচরণের ভালো-মন্দ অথবা ঔচিত্য-অনৌচিত্য বিচার করা। যুক্তিবিদ্যার চিন্তার নিয়মসমূহ মূলত একটি অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়। এ প্রক্রিয়া সরাসরি বাহ্যিক অভিজ্ঞতা হিসাবে আমাদের কাছে প্রতিফলিত হয় না। কিন্তু নীতিবিদ্যা মানুষের আচরণ, অর্থাৎ মানুষের অভ্যন্তরীণ চিন্তা প্রক্রিয়ার বহিঃপ্রকাশ হিসাবে বাহ্যিক ক্রিয়া-কলাপ নিয়ে আলোচনা করে। যুক্তিবিদ্যার সিদ্ধান্তসমূহ মানুষের উন্নত চিন্তা- প্রক্রিয়ার ফল, যা যৌক্তিক নিয়মের মানদণ্ডে, বিচার করা সহজ ব্যাপার। কিন্তু নীতিবিদ্যায় মানুষের আচরণ বিভিন্ন নৈতিক আদর্শের মানদণ্ডে বিচার করে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বেশ কঠিন ব্যাপার। যুক্তিবিদ্যার ক্ষেত্র নীতিবিদ্যার পরিসর অপেক্ষা সংকীর্ণ, পক্ষান্তরে নীতিবিদ্যার পরিসর যুক্তিবিদ্যা অপেক্ষা অনেক বেশি ব্যাপক। কারণ মানব সমাজের এমন কোনো দিক নেই যা নৈতিকতার বাইরে পড়ে। যুক্তিবিদ্যা সঠিক চিন্তার যেসব সূত্র আবিষ্কার করে সেগুলো বিজ্ঞানের তত্ত্বের মতো সর্বজনস্বীকৃত। কিন্তু নীতিবিদ্যা মানুষের আচরণ সম্পর্কে যে বিভিন্ন সব তত্ত্বের অবতারণা করে সে ব্যপারে নীতিবিদদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। তবে যুক্তিবিদ্যা ও নীতিবিদ্যার মধ্যে বৈসাদৃশ্য থাকলেও তাদের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বিদ্যমান। কেননা মানুষের যুক্তি এবং বিবেক যখন একান্তভাবে সমন্বিত হয় তখনই প্রকৃতপক্ষে মানুষ উন্নত জীবনের ধারক হয়ে উঠে।