1 Answers

শিক্ষিকা শাহানা বেগম ক্লাসে মৌল বিপাকের প্রভাবক বিষয়াদি সম্পর্কে ধারণা দেন।

মৌল বিপাক দেহপৃষ্ঠের ক্ষেত্রফলের সাথে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত। দেহপৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল বাড়লে বিপাক ও শক্তি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। যেমন- বেঁটে লোকের তুলনায় লম্বা লোকের মৌল বিপাক বেশি বা শক্তির চাহিদা বেশি হয়।

মৌল বিপাক হার দেহের গঠনের জন্য ভিন্ন হতে পারে। যেমন- দৃঢ় পেশিবহুল দেহের বিপাক মেদবহুল দেহ অপেক্ষা বেশি হয়ে থাকে। আবার বয়স বাড়ার সাথে সাথে মৌল বিপাক হার হ্রাস পেতে থাকে। বৃদ্ধদের তুলনায় যুবকের বিপাক বেশি হয়। পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির তুলনায় শিশুদের বিপাক হার ১০%-১২% বেশি থাকে। লিঙ্গের কারণেও মৌল বিপাক ক্রিয়ায় তারতম্য দেখা যায়। নারী পুরুষের তুলনায় কম পরিশ্রমী এবং দেহে মেদ বেশি থাকে, অন্যথায় পুরুষের দৈহিক পরিশ্রমে পেশি চালনা তীব্রতর হয় বলে নারী অপেক্ষা পুরুষের বিপাক হার ১০%-২০% বেশি। আমাদের দেহস্থিত এন্ডোক্রাইন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস বিপাক 'হারকে প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। থাইরক্সিন, এ্যাড্রিনালিন প্রভৃতি হরমোনের ক্ষরণ স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেলে মৌল বিপাক হারও বৃদ্ধি পায় এবং কম হলে কমে যায়। কোনো ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অপর্যাপ্ত আহার করলে তার মৌল বিপাক হার কম থাকে। পুষ্টিকর খাদ্যের অনবরত অভাবে ও অনাহারে মৌল বিপাক প্রায় ৩০% পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। এছাড়া দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা থেকে অতিরিক্ত প্রতি ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপে প্রায় ৫%-৭% মৌল বিপাক হার বেড়ে যায়।

পরিশেষে বলা যায়, উপরিউক্ত বিষয়সমূহ মৌল বিপাকে প্রভাব বিস্তার করে থাকে।

5 views

Related Questions