1 Answers
শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম। পরিবারই শিশুর প্রথম ও প্রধান শিক্ষালয়। তারুণ্যে বেড়ে ওঠা শিশুদের বিভিন্ন সমস্যার কারণে সৃষ্ট বিপর্যয়গুলো সমাধানের দায়িত্বও তাই পরিবার ও সমাজের।
উদ্দীপকে ইমনের বাবা-মা পৃথক বসবাস করেন। তাদের পরিবারে বন্ধনের অভাব রয়েছে। পারিবারিক অশান্তি ইমনকে করে তুলেছে অপরাধপ্রবণ। এ ধরনের অপরাধমূলক কাজে ইমনের মতো ছেলেমেয়েরা শুধু পারিবারিক ভাঙনের জন্য নয় বরং অতি প্রশ্রয়, দারিদ্রতা, মা-বাবার দৃষ্টিভঙ্গি, সংগদোষেও সংযুক্ত হয়ে পড়ে। পরিবার ও সমাজের সহযোগিতায় এ ধরনের তরুণদের বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করা যায়। যেমন- পিতামাতার কখনোই তাদের ছেলেমেয়েদের অতিরিক্ত শাসন করা উচিত নয়। তাদের সাথে স্নেহপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করলে অনেক সমস্যাই সমাধান করা সহজ হয়। প্রথম থেকেই তাদের ছোটখাটো অপরাধগুলো সংশোধন করা প্রয়োজন। পারিবারিক কলহ তাদের সামনে পরিহার করে সৃজনশীল ও খেলাধুলায় তাদের অবসর কাটানোর ব্যবস্থা করা উচিত। ছোটবেলা হতে তাদের ছোটখাটো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহী করা প্রয়োজন। সমাজের উচিত যারা অপরাধে জড়িয়ে গেছে তাদের পুনর্বাসন করা, বিভিন্ন গঠনমূলক কাজে তাদের নিয়োগ করা, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সামাজিক কাজে তাদের নিয়োজিত করে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তি বলে তাদের মনে করানো। দারিদ্রতা দূরীকরণ, পরিবারের স্থিতিশীলতা, স্নেহ-মমতাপূর্ণ পরিবেশ, ন্যায়নীতি শিক্ষাদান, উপযুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ইমনের বয়সী তরুণদের সমস্যা দূরীকরণ করা সম্ভব।
পরিশেষে বলা যায়, উপরিউক্ত বিষয় লক্ষ রেখে পিতামাতার উপযুক্ত পরিবেশ প্রদানের মাধ্যমে তার সমস্যা সমাধান করা উচিত।