1 Answers
উদ্দীপকে বিধৃত বিষয়টি পাঠ্যক্রমের প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ ও কৃত্রিম শ্রেণিকরণের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে। নিচে এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো-
কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য বস্তুসমূহ বা ঘটনাবলিকে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে একত্রে সন্নিবেশিত করার মানসিক প্রক্রিয়াকে শ্রেণিকরণ বলে। শ্রেণিকরণ দুই প্রকার; যথা: প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম শ্রেণিকরণ। যে শ্রেণিকরণে বস্তু বা বিষয়সমূহ সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে বিন্যস্ত করা হয় তাকে প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ বলা হয়। যেমন: প্রাণিজগতে মেরুদণ্ড থাকা বা না থাকার ভিত্তিতে প্রাণিকুলকে মেরুদন্ডী ও অমেরুদণ্ডী এ দুই শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা যায়। এই শ্রেণিকরণকে প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণ বলার কারণ হচ্ছে, যে মৌলিক সাদৃশ্যের ভিত্তিতে আমরা এ প্রকারের শ্রেণিকরণ করি সে মৌলিক ও অপরিহার্য সাদৃশ্যগুলো স্বয়ং প্রকৃতিতেই বিদ্যমান এবং সেগুলো আমাদের মনগড়া নয়।
অন্যদিকে শ্রেণিকরণে বিশেষ কোনো ব্যবহারিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য বস্তু বা বিষয়সমূহকে বিন্যস্ত করা হলে তাকে কৃত্রিম শ্রেণিকরণ বলে। যেমন: যখন মালী ফুলের গাছগুলোর পরিচর্যার উদ্দেশ্য বড় ও ছোট গাছ হিসেবে শ্রেণিকরণ করে তখন তা হয় কৃত্রিম শ্রেণিকরণ। এ শ্রেণিকরণের মাধ্যমে কোনো বিশেষ ব্যবহারিক উদ্দেশ্য সাধিত হয় বলে একে ব্যবহারিক শ্রেণিকরণও বলা হয়।
মূলত প্রাকৃতিক শ্রেণিকরণকে বৈজ্ঞানিক শ্রেণিকরণ ও কৃত্রিম শ্রেণিকরণকে অবৈজ্ঞানিক শ্রেণিকরণও বলা হয়ে থাকে।