1 Answers

উদ্দীপকের মতো ঘটনায় কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ে যৌথ অন্বয়ী ব্যতিরেকী পদ্ধতির প্রয়োগে অনেক অসুবিধা দেখা দেয়। কথাটি বিশ্লেষণ করা হলো-

এক, যৌথ পদ্ধতি পরিবেশ পরিবর্তন করে ঘটনার প্রভাব নিরূপণ করতে অক্ষম : নিরীক্ষণের পদ্ধতি বলে যৌথ পদ্ধতিতে নিরীক্ষণের অসুবিধাসমূহ বর্তমান; এক্ষেত্রে আমরা আমাদের ইচ্ছামতো বারবার সদর্থক ও নঞর্থক দৃষ্টান্তগুলো পরীক্ষা করতে পারি না।

দুই, যৌথ পদ্ধতিতে অনিরীক্ষণ অনুপপত্তি দেখা দিতে পারে: এ পদ্ধতি অনেক সময় কোনো গুপ্ত কারণের সম্ভাবনায় বানচাল হয়ে যায়। নিরীক্ষণের সাহায্যে সবকিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা সম্ভব নয় বলে সদর্থক ও নঞর্থক দৃষ্টান্ত সংগ্রহের সময় কোনো প্রয়োজনীয় বিষয় হয়তো আমাদের দৃষ্টি এড়িয়ে অনিরীক্ষণ অনুপপত্তি দেখা দিতে পারে। যেমন: একজন লোক যেদিন হাঁসের ডিম খান সেদিন তার বদহজম হয়; আর যেদিন খান এডিম না সেদিন বদহজম হয় না। এ থেকে হাঁসের ডিমকে বদহজমের কারণ বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়। কিন্তু বাস্তবে লোকটির পরিপাকতন্ত্রে হয়তো কোনো সমস্যা থাকতে পারে।

তিন, যৌথ পদ্ধতি অনেক সময় সহঅবস্থানের সম্পর্ক দ্বারা প্রতারিত হতে পারে: এ পদ্ধতি কার্যকারণ সম্পর্ককে সহঅবস্থানের সম্পর্ক থেকে পৃথক করতে পারে না। দুটি ঘটনাকে সবসময় একত্রে ঘটতে দেখে এবং পৃথকভাবে ঘটতে না দেখে এ পদ্ধতি অনুসারে তাদের মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক অনুমান করা যায়। বাস্তবে হয়তো তারা সহঅবস্থিত বস্তু বা ঘটনা, কার্য ও কারণ নয়; যেমন : আমরা অনেক সময় বিদ্যুৎকে বজ্রধ্বনির কারণ বলে মনে করি। বিদ্যুৎ আগে ঘটে, তারপর বজ্রধ্বনি ঘটে; তাই বিদ্যুৎ হচ্ছে বজ্রধ্বনির কারণ। কিন্তু বাস্তবে বিদ্যুৎ ও বজ্রধ্বনি সহঅবস্থিত ঘটনা; এরা উভয়ে অন্য একটি কারণ। যথা: মেঘের ঘর্ষণ থেকে বজ্রধ্বনি উৎপন্ন। তাই এরা একে অপরের কারণ বা কার্য হতে পারে না।

চার, যৌথ পদ্ধতির সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য : নিরীক্ষণের পদ্ধতি বলে যৌথ পদ্ধতির সিদ্ধান্ত কোনো ক্ষেত্রেই নিশ্চিত নয়। এ পদ্ধতির সাহায্যে অনেক সময় সফলতার সাথে কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার করা গেলেও তাকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করা যায় না। ফলে এর সিদ্ধান্ত সম্ভাব্যই থেকে যায়, নিশ্চয়তার স্তরে পৌঁছতে পারে না।

4 views

Related Questions