1 Answers
উদ্দীপকে প্রকল্প গঠনের একটি মাত্র উৎস, অর্থাৎ সরল গণনামূলক আরোহের দিকটি ফুটে উঠেছে। এটি ছাড়াও প্রকল্প গঠনের আরও অনেক উৎস রয়েছে। নিচে এ বিষয়ে বিশ্লেষণ করা হলো-
সরল আবর্তন (Simple Conversion): অনেক সময় কোনো একটি যুক্তিবাক্যকে সরল আবর্তন করেও প্রকল্প গঠন করা যায়; যেমন : 'ঢাকা হয় বাংলাদেশের রাজধানী', এ যুক্তিবাক্যটির সরল আবর্তন হচ্ছে 'বাংলাদেশের রাজধানী হয় ঢাকা'। আর এ সরল আবর্তন থেকে যে প্রকল্পটি গৃহীত হয় তা হলো, 'কেবল ঢাকা শহরই হচ্ছে বাংলাদেশের রাজধানী'। তবে অনেক সময় এ ধরনের সিদ্ধান্ত ভ্রান্তও হতে পারে; যেমন : 'সব মানুষ হয় দ্বিপদ'; এর সরল আবর্তন হবে 'সব দ্বিপদ প্রাণী হয় মানুষ'। এ থেকে গৃহীত প্রকল্পটি হবে 'একমাত্র মানুষই দ্বিপদ'। কিন্তু আমরা জানি, মানুষ ছাড়াও দ্বিপদ প্রাণী আছে। সুতরাং প্রকল্পের উৎস হিসেবে সরল আবর্তন সর্বক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য না হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা প্রকল্প গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
সাদৃশ্যমূলক অনুমান (Analogy): অনেক সময় দুটি বস্তু বা ঘটনার মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে সাদৃশ্য দেখে এদের একটিতে বিদ্যমান কোনো বিশষ গুণ অন্যটিতে থাকবে বলে আমরা অনুমান করি; আর এরূপ অনুমানই হচ্ছে প্রকল্প। যেমন : 'মানুষ ও উদ্ভিদের মধ্যে জন্ম, মৃত্যু ও বৃদ্ধির মিল আছে; সুতরাং মানুষের মতো উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে।' তবে এরূপ প্রকল্প হচ্ছে সম্ভাবনামূলক অনুমান, যাকে প্রকল্প গঠনের ক্ষেত্রে সুনিশ্চিত উৎস বলা না গেলেও অনেক ক্ষেত্রে তা প্রকল্প গঠনে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করে।
বিজ্ঞানসম্মত কল্পনা (Scientific Imagination): বিজ্ঞানীরা তাদের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে কোনো ঘটনার কারণ নির্দেশ করার ক্ষেত্রে প্রথমেই সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে একটি আনুমানিক নিক ধারণা গঠন করেন, যা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। আর এরূপ আনুমানিক ধারণাই হচ্ছে প্রকল্প; যেমন: গাছ থেকে আপেল পড়া সম্পর্কে নিউটনের গৃহীত প্রকল্পটি ছিল, 'ভূপৃষ্ঠের আকর্ষণই ভারী বস্তুর নিচে পড়ার কারণ', যার নাম্ তিনি দিয়েছেন 'মাধ্যাকর্ষণ শক্তি'। আর এই প্রকল্পটিই পরবর্তীতে প্রমাণিত হয়ে নিয়মের পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।
কাজেই এদিক থেকে মানুষের বৈজ্ঞানিক চিন্তাশক্তিকে প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচনা করা যায়।