1 Answers
উদ্দীপকের মতো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় আরও অনেক শর্ত রয়েছে। নিচে কথাটি বিশ্লেষণ করা হলো-
যথার্থ ব্যাখ্যা বলতে সাধারণত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাকেই নির্দেশ করা হয়, যা কতগুলো শর্তের অধীন। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার এ শর্তগুলো পালন না করেই যখন কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তখন তাকে বলে ভ্রান্ত ব্যাখ্যা। যুক্তিবিদ বেইন এ ক্ষেত্রে তিন ধরনের ভ্রান্ত ব্যাখ্যার উল্লেখ করেছেন। তবে যুক্তিবিদ্যায় এছাড়া আরও তিন ধরনের ভ্রান্ত ব্যাখ্যার উল্লেখ পাওয়া যায়, যেগুলোর একটি উদ্দীপকে আলোচিত হয়েছে। উক্ত শর্তটি ব্যতীত অন্য শর্তগুলো নিচে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হলো :
- জানা ঘটনাকে সহজ মনে করা হচ্ছে একধরনের ভ্রান্ত ব্যাখ্যা। এ প্রসঙ্গে বেইন বলেন, অন্য একটি ভ্রান্তি হচ্ছে পরিচিত ঘটনাবলিকে সহজ-সরল মনে করা। অনেক সময় কোনো ঘটনাকে বারবার ঘটতে দেখলে আমাদের কাছে ঘটনাটিকে অত্যন্ত সহজ-সরল বলে মনে হয়। আর এরূপ ক্ষেত্রেই ভ্রান্ত ব্যাখ্যার উদ্ভদ্ধ ঘটে।
- ব্যাপক নিয়মকে ব্যাপকতর নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করা ব্যাখ্যার অন্যতম ভ্রান্তি। এ ক্ষেত্রে বেইন এর বক্তব্য হচ্ছে, “সবচেয়ে বড় ভ্রান্তি হচ্ছে ঘটনার সংযোগ ও পারম্পর্য সম্পর্কে ব্যাপকতম নিয়মকে অতিক্রম করে আরও কিছু প্রত্যাশা করা। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় সাধারণত একটি নিয়মকে তার চেয়ে ব্যাপক কোনো নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা করা হয়। সে ক্ষেত্রে যে নিয়ম সবচেয়ে ব্যাপক, অর্থাৎ যাকে অন্তর্ভুক্ত করার মতো আর কোনো অধিক ব্যাপক নিয়ম নেই, সেই সর্বোচ্চ নিয়মকে ব্যাখ্যা করা যায়। যা থেকেই ভ্রান্ত ব্যাখ্যার উদ্ভব ঘটে।
বেইন প্রদত্ত উল্লিখিত তিন শ্রেণির ভ্রান্ত ব্যাখ্যা ছাড়াও অন্য তিনটি ভ্রান্ত ব্যাখ্যা হলো নিম্নরূপ-
- প্রাকৃতিক ঘটনার অতিপ্রাকৃত কারণ দেখানো হলো, অর্থাৎ প্রাকৃতিক কোনো ঘটনাবলিকে যদি কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে অতিপ্রাকৃতিক কোনো সত্তার সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হয়, তাহলে এটা হবে একটি ভ্রান্ত ব্যাখ্যা।
- আপাত সাদৃশ্যের ভিত্তিতে কোনো ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা হলে তা হবে ভ্রান্ত ব্যাখ্যা।
- সর্বোপরি লৌকিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ জাতীয় ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে যেকোনো ধরনের লৌকিক ব্যাখ্যাই ভ্রান্ত ব্যাখ্যা।
5 views
Answered