1 Answers
উদ্দীপকের ডাক্তার আলাউদ্দিন নাপা বড়ির সাথে জ্বরের কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করতে গিয়ে নিম্নোক্ত অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারেন-
প্রথমত, কাকতালীয় অনুপপত্তির উদ্ভব: নিরীক্ষণের সাহায্যে এ পদ্ধতির প্রয়োগ করতে গিয়ে আমরা ভুল করি। দুটি ঘটনার একটিকে আরেকটির পূর্বে ঘটতে দেখে আমরা পূর্ববর্তী ঘটনাকে পরবর্তী ঘটনার কারণ বলে ধরে নিই।
দ্বিতীয়ত, এ পদ্ধতি দ্বারা সরাসরি কার্যকারণ নির্ণয় করা যায় না: ব্যতিরেকী পদ্ধতি মূলত পরীক্ষণের পদ্ধতি হওয়ায় পরীক্ষণের ত্রুটি ব্যতিরেকী পদ্ধতিতে পরিলক্ষিত হয়। এ পদ্ধতিতে আমরা কার্য থেকে কারণের দিকে পরোক্ষভাবে যেতে পারলেও সরাসরি নয়। তাই প্রথমে আমাদের কারণ সম্পর্কে একটা আনুমানিক ধারণা গঠন করে পরোক্ষভাবে অগ্রসর হতে হয়।
তৃতীয়ত, ব্যতিরেকী পদ্ধতি কারণ ও শর্তের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে পারে না: কেননা, আমরা যদি বারুদের স্তূপে একটা জ্বলন্ত কাঠি ফেলি তাহলে বিস্ফোরণ ঘটবে। এ থেকে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি না যে জ্বলন্ত কাঠিটিই বিস্ফোরণের একমাত্র কারণ। বিস্ফোরণকার্য কেবল জ্বলন্ত কাঠি দ্বারাই সংঘটিত হয় না। বস্তুত, জ্বলন্ত কাঠি কারণের একটা অপরিহার্য অংশ।
চতুর্থত, যেসব ক্ষেত্রে পরীক্ষণ সম্ভব নয়, সেসব ক্ষেত্রে ব্যতিরেকী পদ্ধতির যথার্থ প্রয়োগও সম্ভব নয়। যেমন: জড় পদার্থের মধ্যে উত্তাপ ও মাধ্যাকর্ষণ শক্তির স্থায়ী কারণকে অপসারণ করা সম্ভব হয় না। তাই এসব ক্ষেত্রে ব্যতিরেকী পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে না।
পঞ্চমত, ব্যতিরেকী পদ্ধতি বহু কারণ সম্ভাবনা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত নয়। এ প্রসঙ্গে ড. স্টিফেন (Dr. Stephen) বলেন, "বহুকারণবাদ মেনে নিলে ব্যতিরেকী পদ্ধতি অচল হয়ে যায়।"
ষষ্ঠত, ব্যতিরেকী পদ্ধতির প্রয়োগ এক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। যুক্তিবিদ মিল (Mill) বলেন, বাস্তব জীবনে এর প্রয়োগ খুবই কঠিন।