1 Answers
যুক্তিবিদ মিল এর মতে, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তিন প্রকার; যথা: বিশ্লেষণ, শৃঙ্খলযোজন ও অন্তর্ভুক্তি। মূলত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার এই তিনটি রূপই কোনো ঘটনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তার মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার করে। এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো-
সাধারণত 'বিশ্লেষণ' কথাটির অর্থ হলো কোনো বিষয় বা ঘটনাকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করা। কয়েকটি কারণ মিলিতভাবে কাজ করার ফলে একটি মিশ্র কার্য উৎপন্ন হয়। এ মিশ্র কার্য যে বিভিন্ন কারণের মিলিত ফল, তা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় সে কারণগুলোকে আলাদা করে দেখানো হয়। এ প্রক্রিয়াকেই বিশ্লেষণ বলে।
উদাহরণস্বরূপ, একটি নৌকার গতি ব্যাখ্যা করার সময় নদীর স্রোত, বাতাসের শক্তি, দাঁড়ের ব্যবহার ইত্যাদি একসাথে কাজ করার বিষয় উল্লেখ করা হয়। নৌকার গতি সৃষ্টির পেছনে এ কারণগুলো মিলিতভাবে কাজ করে। যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় কোনো দূরবর্তী কারণ ও তার কার্যসমূহের মধ্যবর্তী ধাপগুলো আবিষ্কার করা হয়, তাকে শৃঙ্খলযোজন বলা হয়। এ ব্যাখ্যায় দেখানো হয়, কোনো কার্য প্রত্যক্ষভাবে কল্পিত কারণটি থেকে উদ্ভূত নয়; বরং কারণটি কোনো অন্তর্বর্তী কার্য থেকে উদ্ভূত। আবার অন্তর্ভুক্তি বলতে যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় একটি কম ব্যাপক নিয়মকে বেশি ব্যাপক নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করা হয় তাকে বোঝায়। এ ধরনের ব্যাখ্যায় আমরা একটি কম ব্যাপক নিয়মকে বেশি ব্যাপক নিয়মের অধীনে এনে ব্যাখ্যা করি। যেমন: জোয়ার-ভাটার নিয়মকে অধিক ব্যাপক মাধ্যাকর্ষণ নিয়মের অন্তর্ভুক্ত 'করে তার ব্যাখ্যাদান করা। মাধ্যাকর্ষণ নিয়ম একটি সার্বিক নিয়ম। এ নিয়মের ক্ষেত্রে যে ব্যাখ্যা প্রযোজ্য, সেই ব্যাখ্যাই জোয়ার- ভাটার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তিনটি রূপই কার্যকারণ সম্পর্ককে বর্ণনা করে। কেননা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কারের মাধ্যমে আলোচ্য ঘটনাকে বিশ্লেষণ করতে হয়। সে ক্ষেত্রে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করার অর্থই হলো কোনো ঘটনা যেসব নিয়মের অধীন তার অন্তর্ভুক্তি করা এবং একই সাথে ঘটনাটি সংঘটনের কারণগুলোকে শৃঙ্খলযোজন করা।