1 Answers
হ্যাঁ, এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, কার্যকারণ নীতির প্রয়োগ পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল।
কার্যকারণ নিয়মানুসারে প্রতিটি ঘটনারই একটি কারণ আছে; কারণ ছাড়া কোনো কিছুই ঘটে না। এ কারণের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে জানা যায়, কারণ হচ্ছে কার্যের অব্যবহিত, শর্তহীন, অপরিবর্তনীয় পূর্ববর্তী ঘটনা। তাছাড়া কারণ কোনো একক ঘটনা নয়; কারণ হচ্ছে কার্য উৎপাদনের পক্ষে প্রয়োজনীয় সদর্থক ও নঞর্থক শর্তের সমষ্টি। আর পরিমাণের দিক থেকে কারণ ও কার্য সমান সমান। আমরা কার্যকারণ নিয়মকে বাস্তবে প্রয়োগ করে ঘটনাবলির মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার করার চেষ্টা করি। তখনই আমাদের যেকোনো একটি পরীক্ষণমূলক পদ্ধতির উপর নির্ভর করতে হয়। এরূপ কোনো একটি পদ্ধতির সাহায্য না এলে কার্যকারণ নিয়মের বাস্তব প্রয়োগ ফলপ্রসূ হয় না। আমরা পদে পদে কার্যকারণ সংক্রান্ত বিভিন্ন অনুপপত্তি ফাঁদে ধরা পড়তে পারি। আমরা হয়তো একটি আকস্মিক ও পূর্ববর্তী ঘটনাকে কারণ বলে ধারণা করে কাকতালীয় অনুপপত্তি করলে এবং কোনো দূ রবর্তী শর্তকে কারণ বলে, একটি মাত্র শর্তকে সমগ্র কারণ বলে অথবা সহকার্যকে কারণ ও কার্য বলে ধারণা করে কার্যকারণ সংক্রান্ত অনুপপত্তির কবলে নিপতিত হতে পারি। কার্যকারণ সম্পর্ক অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে পরীক্ষণমূলক পদ্ধতিকে যথাযথভাবে ব্যবহার করলে ভুলের তেমন আশঙ্কা থাকে না। উদ্দীপকে বিজ্ঞানীরা চন্দ্রগ্রহণের কারণ অনুসন্ধানের জন্য অনেকগুলো কারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং শেষ পর্যন্ত একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছান।
সুতরাং এ কথা স্পষ্ট, কার্যকারণ নীতির যথার্থ প্রয়োগ পরীক্ষণমূলক পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল।