1 Answers
উদ্দীপকে ডায়রিয়া রোগের কারণ অনুসন্ধানে আমরা পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতির অন্তর্গত ব্যতিরেকী পদ্ধতির সাহায্য নেব। নিচের ব্যতিরেকী পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হলো-
ব্যতিরেকী পদ্ধতির অর্থ হচ্ছে পার্থক্যের পদ্ধতি। এ পদ্ধতি মাত্র দুটি উদাহরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এদের একটিতে আলোচ্য ঘটনা এবং তার সাথে অপর একটি অবস্থা উপস্থিত থাকে। দৃষ্টান্ত দুটির মধ্যে অনেক দিক দিয়েই মিল থাকে। শুধু একটি বিষয়ে পার্থক্য থাকে। আর তা হলো, আলোচ্য ঘটনা এবং একটি অবস্থার উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি। এদিকে লক্ষ রেখে উভয়ের মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। ব্যতিরেকী পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য হলো-
১। ব্যতিরেকী পদ্ধতির ব্যাখ্যায় সর্বদা দুটি দৃষ্টান্তের প্রয়োজন। দৃষ্টান্ত দুটির একটি সদর্থক এবং অপরটি নঞর্থক। সদর্থক বাক্য উপস্থিত থাকে এবং নঞর্থক দৃষ্টান্তে অনুপস্থিত থাকে।
২। পদ্ধতি ব্যাখ্যার জন্য প্রয়োজনীয় সদর্থক ও নঞর্থক দৃষ্টান্ত দুটিতে মাত্র একটি বিষয়ে অমিল থাকে এবং এ অমিলের বিষয়টি সদর্থক দৃষ্টান্তেই উপস্থিত থাকে, নঞর্থক দৃষ্টান্তে নয়। ফলে এর দ্বারা এটি সহজেই বোঝা যায় যে, দৃষ্টান্ত দুটির মধ্যে একমাত্র অমিলের বিষয়টিই অনুসন্ধেয় ঘটনার কারণ বা কার্য।
৩। পদ্ধতির জন্য প্রয়োজনীয় দৃষ্টান্ত দুটির মধ্যে একটি বিষয়ে অমিল থাকলেও অবশিষ্ট সব বিষয় একই রকম বা অপরিবর্তিত থাকে।
৪। ব্যতিরেকী পদ্ধতি মূলত একটি পরীক্ষণের পদ্ধতি। কেননা উপরিউক্ত প্রথম তিনটি প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের শর্ত পূরণ করা আমাদের পক্ষে তখনই সম্ভব হয়, যখন সমগ্র ঘটনাবলিই আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। আর এ নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যাপারটি একমাত্র পরীক্ষণ দ্বারাই সম্ভব।
৫। ব্যতিরেকী পদ্ধতিটির জন্য প্রয়োজনীয় দৃষ্টান্ত দুটি কেবল পরীক্ষণের মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব, তাই ব্যতিরেকী মূলত একটি অভিজ্ঞতামূলক পদ্ধতি। সুতরাং উপরে আলোচিত পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে উদ্দীপকের ডায়রিয়া রোগের সময় কোনো বিষয়ের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির মাধ্যমে ডায়রিয়া রোগের কারণ নির্ণয় করা যাবে।