1 Answers
কোনো আরোহ অনুমানে বিশেষ করে বৈজ্ঞানিক আরোহে সিদ্ধান্ত স্থাপনের পূর্বে সংশ্লিষ্ট দুটি ঘটনার মধ্যে একটি কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা খুবই জরুরি। তবে এ কাজটি করা দুঃসাধ্য। যুক্তিবিদরা কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কারের কাজটি সহজতর করার জন্য কয়েকটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। এগুলো পরীক্ষণমূলক পদ্ধতি নামে পরিচিত।
এ পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে, ঘটনাবলির অনুসন্ধানকে সিদ্ধান্ত স্থাপনের পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া। এ থেকেই আমরা কার্যকারণ নিয়মের সাথে পরীক্ষণমূলক পদ্ধতির একটি ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র খুঁজে পাই। এ যোগসূত্রের মধ্যে দুটি দিক লক্ষ করা যায়-
এক: কার্যকারণ নিয়মের যথার্থ প্রয়োগ পরীক্ষণমূলক প্রয়োগের উপর নির্ভরশীল। আমরা কার্যকারণ নিয়মকে বাস্তবে প্রয়োগ করে ঘটনাবলির মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার করার চেষ্টা করি। আর তখনই যেকোনো একটি পরীক্ষণমূলক পদ্ধতির উপর নির্ভর করতে হয়। আর এ পদ্ধতিগুলোর সাহায্য না নিয়ে যদি আমরা আকস্মিক ও পূর্ববর্তী ঘটনাকে কারণ বলে ধারণা করি, তবে আমরা কাকতালীয় অনুপপত্তি এবং কোনো দূরবর্তী শর্তকে কারণ বলে বা একটিমাত্র শর্তকে সমগ্র কারণ বলে ধরাণা করে কার্যকারণসংক্রান্ত অনুপপত্তির কবলে পড়তে পারি।
দুই: পরীক্ষণমূলক পদ্ধতিগুলো আবার পরোক্ষভাবে কার্যকারণ নিয়মের উপর নির্ভরশীল। কোনো একটি ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের সময় আমরা বহুবিধ ঘটনা যেমন: কিছু প্রয়োজনীয় এবং কিছু অপ্রয়োজনীয় ঘটনার সম্মুখীন হই। এরূপ অবস্থায় একটি পদ্ধতি তার সংশ্লিষ্ট একটি অপনয়নের সূত্রকে প্রয়োগ করে অপ্রয়োজনীয় ঘটনাকে অপনয়ন করে বা বাদ দিয়ে প্রাসঙ্গিক ঘটনাসমূহের প্রতি তার দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। আর অপনয়নের সূত্রগুলো কোনো মৌলিক নিয়ম নয়। এগুলো কার্যকারণ নিয়ম থেকে অবরোহ পদ্ধতিতে নিঃস হয়েছে। তাই পরীক্ষণমূলক পদ্ধতি পরোক্ষভাবে কার্য নিয়মের অনুসারী।