1 Answers

উদ্দীপকের ফজল মিয়ার সিদ্ধান্তে কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কারণ, আমরা লক্ষ করে দেখতে পাই যে, তিনি যে সিদ্ধান্ত নেন অর্থাৎ পুত্রবধূর আবির্ভাবের কারণে ভালো ফলন হয়েছে। এটি কাকতালীয় অনুপপত্তি ঘটেছে।

কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হতে হলে সিদ্ধান্ত বা কার্যটি কার্যকারণ নিয়মে হতে হবে। কার্যকারণ নিয়ম হলো প্রত্যেক ঘটনার বা কার্যের একটি কারণ আছে। কারণ ছাড়া কার্য সংঘটিত হয় না। এক্ষেত্রে প্রতিটি ঘটনা তার পূর্বের ঘটনার সাথে এমন সুনির্দিষ্ট ও সুসংগতভাবে সম্বন্ধযুক্ত যে, সে পূর্ব ঘটনা ঘটলে তবেই এ ঘটনা ঘটে এবং পূর্বের সেই ঘটনা না ঘটলে উক্ত ঘটনাটি ঘটে না। উদ্দীপকে ফজল মিয়ার সিদ্ধান্তে আমরা কার্যকারণ নিয়মটি দেখতে পাই না। কারণ, পুত্রবধূর আবির্ভাব ছাড়াও ভালো ফলন সম্ভব। পুত্রবধূ আসার পূর্বেও কয়েক বছর আগে ভালো ফলন হয়েছিল। আর এবার ভালো ফলন হয়েছে এর বিভিন্ন কারণ রয়েছে। যেমন সঠিকভাবে পানি দেওয়া, সার প্রয়োগ করা, নিড়ানি দেওয়া। এগুলোর কারণে ফসল ভালো হয়েছে। এমনতো নয় যে এগুলো না করে শুধু পুত্রবধূ নিয়ে আসায় ফলন ভালো হয়েছে। পুত্রবধূ ভালো ফলন হওয়ার পূর্ববর্তী কোনো কারণ নয়। এটি হলো একটি কাকতালীয় কারণ। আর কাকতালীয় কারণের উপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে তা যথার্থ হবে না। কোনোরূপ কার্যকারণ সম্পর্ক ছাড়া পূর্ববর্তী ঘটনাকে পরবর্তী ঘটনার কারণ মনে করলে কাকতালীয় অনুপপত্তি ঘটে। ফজল মিয়ার সিদ্ধান্তে কাকতালীয় অনুপপত্তি ঘটেছে।

সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, কাকতালীয় অনুপপত্তির কারণে ফজল মিয়ার সিদ্ধান্তে কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলন ভালো হওয়ার সাথে পুত্রবধূর আবির্ভাবের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি কাকতালীয় ঘটনা।

5 views

Related Questions