1 Answers
উদ্দীপকে বদলপুর গ্রামের ঘটনাটিতে কার্যকারণ সম্পর্ক প্রমাণের 'অন্বয়ী পদ্ধতি' প্রয়োগ করা যায়।
অন্বয়' শব্দের অর্থ মিল। যুক্তিবিদ জে. এস. মিল প্রবর্তিত কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতির প্রথম পদ্ধতি হলো অন্বয়ী পদ্ধতি। অন্বয়ী পদ্ধতি হলো একটি নিরীক্ষণমূলক পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে কতকগুলো দৃষ্টান্ত নিরীক্ষণ করে কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়। অর্থাৎ যদি আলোচ্য দুই বা ততোধিক দৃষ্টান্তের মধ্যে একটি বিষয়ে মিল এবং অবশিষ্ট সব বিষয়ে অমিল থাকে, যে বিষয়টি মিল থাকে সে বিষয়টিই কার্য বা কারণ বলে বিবেচিত হবে।
অন্বয়ী পদ্ধতি অনুযায়ী নিরীক্ষণের মাধ্যমে যদি এমন দুটি ঘটনার সন্ধান পাওয়া যায়, যারা পারস্পরিকভাবে সহউপস্থিতির সম্বন্ধে আবদ্ধ, তাহলে ওই ঘটনা দুটি অবশ্যই কার্যকারণ সম্পর্কে আবদ্ধ হবে। মিল এর মতে, অন্বয়ী পদ্ধতির সাহায্যে অতিসহজেই আমরা কারণ থেকে কার্য এবং কার্য থেকে কারণ আবিষ্কার ও প্রমাণ করতে পারি। কারণ এ পদ্ধতিটি অপনয়নের নীতিমালার মাধ্যমে একদিকে যেমন অপ্রাসঙ্গিক ঘটনাগুলোকে বর্জন করে, তেমনি অন্যদিকে আলোচ্য দৃষ্টান্তসমূহের একক সামঞ্জস্যের ভিত্তিতে কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়।
উদ্দীপকে বদলপুর গ্রামে প্রায় প্রতিবছরই বন্যা দেখা দেয় এবং সেই সাথে বন্যার পর ডায়রিয়ার প্রকোপও দেখা দেয়। তাই এলাকাবাসী মনে করে, বন্যাই হলো ডায়রিয়ার কারণ। অর্থাৎ এক্ষেত্রে প্রত্যেকবার বন্যার পরবর্তী ঘটনার ক্ষেত্রে মিল পরিলক্ষিত হয়।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনায় কার্যকারণ সম্পর্কের অন্বয়ী পদ্ধতি অনুসরণ করা সম্ভম্ব।