1 Answers
উক্ত অবস্থা অর্থাৎ অতিবৃষ্টি দেখা দিলে মোহর আলীর এলাকাসহ বাংলাদেশের বেশিরভাগ এলাকাই নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতি বছর দেশের ৮০ শতাংশ জমি বন্যার কারণে বিভিন্ন মাত্রায় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় থাকে। ঘন ঘন বন্যার কারণে কৃষকদের উফশী জাতের পরিবর্তে স্থানীয় জাতের ফসল চাষ করতে হয়, এতে ফলন কমে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সময়ে এ দেশে বন্যা হয়ে থাকে। দেশের মোট উৎপাদিত দানা শস্যের ৬০ ভাগের বেশি এ সময় উৎপাদন হয়। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা, নীলফামারী ইত্যাদি জেলা ঢল বন্যার শিকার হয়। প্রায় প্রতিবছর এসব অঞ্চলের হাজার হাজার একর জমির পাকা বোরো ধান কর্তনের আগেই ঢল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রায় চার হাজার বর্গকিলোমিটার ও দক্ষিণ- পূর্বাঞ্চলের এক হাজার চারশত বর্গকিলোমিটার এলাকা এ ধরনের ঢল বন্যাপ্রবণ। উপকূলীয় এলাকায় বন্যা হলে জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার কারণে ফসল চাষের অনুপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বন্যায় ঘাসে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হয়, ফলে গবাদিপশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিছু কিছু এলাকায় ঘাসের অভাব হয় ফলে গো-খাদ্য পাওয়া যায় না। মাঠে পানি থাকার কারণে পাখিরাও খাবার সংগ্রহের স্থান না পেয়ে খাদ্যাভাবে মারা যায়। জলাবদ্ধতার দরুন নতুন নতুন রোগব্যাধির প্রাদুর্ভাব ঘটে। বিশেষ করে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ও কৃমির আক্রমণ বৃদ্ধি পায়। এতে পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উপরের আলোচনা সাপেক্ষে বলা যায়, জলাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকাই নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।