1 Answers

রাবেয়ার মতো দরিদ্র নারীদের সাহায্য করার মধ্যেই গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নয়।

বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষের সামাজিক উন্নয়নে গ্রামীণ ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। রাবেয়ার মতো নারীদের সাহায্য করার মধ্যেই গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নয়। বরং গ্রামীণ ব্যাংক সামাজিক উন্নয়নের জন্য সেবা খাত, কৃষি ও বন, উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, ব্যবসায় বাণিজ্য, দোকান পরিচালনা, রিকশা ও ভ্যান চালানো প্রভৃতি ক্ষেত্রে ঋণ প্রদান করে থাকে। গ্রামীণ ব্যাংক দরিদ্র ঋণ গ্রহীতাদের মধ্যে আগ্রহ ও উৎসাহ সৃষ্টি করে এবং তাদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতিকল্পে নানা ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করে। যেমন- বৃক্ষরোপণ, পরিবার ছোট রাখা, খরচ কম ও সঞ্চয় করা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, শিক্ষাদান, পরিবেশ রক্ষা, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার, পরিষ্কার পানি পান, বাল্যবিবাহ রোধ, ঘুষ প্রদান রহিত করা, পারস্পরিক সহায়তা, নির্যাতন রোধ, সঠিক সময়ে ঋণ শোধ ইত্যাদি ব্যাপারে তাদের উদ্বুদ্ধ করাসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে উৎসাহ প্রদান করে। গ্রামীণ ব্যাংক কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে ভূমিহীন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে; যা সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকল্পে গ্রামীণ ব্যাংক দরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় ঋণ পৌঁছে দেয়। এ প্রকল্পের ঋণ প্রদান কাঠামো ও পরিশোধ পদ্ধতি দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নের একটি মডেল হিসেবে শুধু বাংলাদেশে নয়, উন্নত বিশ্বেও বহুল সমাদৃত হয়েছে। তবে গ্রামের দরিদ্র মহিলাদের মধ্যে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের প্রসার এ ব্যাংকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলেও এ ব্যাংকের কার্যক্রম শুধু রাবেয়ার মতো নারীদের সাহায্য করার মধ্যেই যে সীমাবদ্ধ নয়, তা উপরের আলোচনা থেকে সহজেই অনুমেয়।

4 views

Related Questions