1 Answers

পশ্চিম পাকিস্তানিদের বৈষম্য কেবল অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না বরং, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রেই বৈষম্য বিদ্যমান ছিল।

পাকিস্তানের ২৪ বছরের ইতিহাসে দেখা যায়, পশ্চিম পাকিস্তানিরা অর্থনীতি ছাড়াও সামরিক, প্রশাসনিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বৈষম্য গড়ে তোলে। ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির দিক থেকে পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানকে চরমভাবে অবহেলা করেছে। পূর্ব পাকিস্তানে ৫৬% বাঙালি থাকা সত্ত্বেও পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাংলা ভাষাকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল। পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক শক্তিতে নিয়োগ প্রাপ্ত বাঙালির সংখ্যা ছিল অতি নগণ্য। ১৯৫৫ সালে সামরিক বাহিনীতে ২,২১১ জন কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র ৮২ জন বাঙালি ছিলেন। ঐ সময় মোট বাজেটের ৬০% ব্যয় হতো সামরিক বাহিনীতে। এমনকি স্থল, নৌ ও বিমাবাহিনীর অর্থাৎ তিন বাহিনীর সদর সপ্তর ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। ১৯৬২ সালে পাকিস্তানে যে মন্ত্রাণালয় গঠিত হয় তার বেশির ভাগ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাগণ পশ্চিম পাকিস্তানের ছিলেন। মন্ত্রাণালয়গুলোতে শীর্ষস্থানীয়দের ৯৫৫ জনের মধ্যে মাত্র ১৯৯ জন ছিলেন বাঙালি। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ৪২,০০০ জন কর্মকর্তার মধ্যে ২,৯০০ জন কর্মকর্তা বাঙালি ছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান রাজনৈতিকভাবেও পঙ্গু হয়ে পড়ে। লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবি থাকলেও সেটা বাস্তবায়িত হয়নি। সামাজিক অবকাঠামোগত দিক থেকে পূর্ব পাকিস্তান অনুন্নত ছিল। হাসপাতাল, অফিস-আদালত, স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট, ডাকঘর, টেলিফোন প্রভৃতি অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে পশ্চিম পাকিস্তানে। শিক্ষাক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য তেমন কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ১৯৫৫-৬৭ সালের মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য ২,০৮৪ মিলিয়ন রুপি বরাদ্দ করা হয়। অন্যদিকে, পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ৭৯৭ মিলিয়ন রুপি বরাদ্দ করা হয়।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নয়, বরং সর্বক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করে পশ্চিম পাকিস্তান নিজের সমৃদ্ধি ঘটিয়েছিল।

4 views

Related Questions