1 Answers
উদ্দীপকে অন্বয়ী পদ্ধতির সাহায্যে 'কার্যকারণ সম্পর্ক থেকে সহঅবস্থান সম্পর্ক পৃথক করা যায় না। – এ অসুবিধাটিই - কেবল প্রতিফলিত হয়েছে। তবে অন্বয়ী পদ্ধতির ক্ষেত্রে এই একটিই অসুবিধা নয়, আরও অসুবিধা রয়েছে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
প্রকৃতিগত ত্রুটি অন্বয়ী পদ্ধতির প্রকৃতির মধ্যে নিহিত। পদ্ধতিটি বহুকারণবাদ দ্বারা নাকচ হয়ে যায়; বহুকারণবাদ অনুসারে একই কার্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণ দ্বারা উৎপন্ন হতে পারে। অন্বয়ী পদ্ধতির প্রয়োগ ক্ষেত্রে এমন হতে পারে যে আলোচ্য কার্যটি বিভিন্ন কারণ দ্বারা উৎপন্ন হয়েছে। অথচ সবগুলো দৃষ্টান্তে একটি অবান্তর বিষয় উপস্থিত আছে। অন্বয়ী পদ্ধতি অনুসারে এ সাধারণ অবান্তর বিষয়কেই কারণ বলে ধরতে হয়। যেমন: একজন ডাক্তার লাল সিরাপের সাথে মিশিয়ে কয়েকটি ভিন্ন ওষুধ কয়েকজন ভিন্ন রোগীকে খেতে দিলেন এবং তারা সবাই আরোগ্য লাভ করল। এক্ষেত্রে লাল সিরাপ হচ্ছে সবগুলো দৃষ্টান্তের সাধারণ অবস্থা; তাই একেই আরোগ্য লাভের কারণ বলে গণ্য করতে হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বিভিন্ন ওষুধই আরোগ্য লাভের কারণ, লাল সিরাপ কারণ নয়; এটি একটি অবান্তর বিষয়।
অন্বয়ী পদ্ধতি একটি নিরীক্ষণ পদ্ধতি; নিরীক্ষণের সাহায্যে সবকিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা সম্ভব হয় না। তাই নিরীক্ষণের সময় প্রয়োজনীয় বিষয় আমাদের দৃষ্টি এড়িয়ে গুপ্ত অবস্থায় থেকে যেতে পারে। আর একটি অপ্রয়োজনীয় বিষয় আমাদের কাছে প্রাধান্য বিস্তার করে থাকতে পারে; অর্থাৎ আমাদের অনিরীক্ষণ অনুপপত্তি ঘটতে পারে। যেমন: একটি বাড়ির কয়েকজন লোক একসাথে কলেরা রোগে আক্রান্ত হলো এবং কলেরা রোগের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা গেল, তারা প্রত্যেকেই আগের দিন পচা মাছের তরকারি দিয়ে ভাত খেয়েছিল। এখানে এটিই হচ্ছে কলেরা রোগের সাধারণ পৃ ববর্তী অবস্থা; তাই পচা মাছ খাওয়াকেই কলেরা হওয়ার কারণ বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো। কিন্তু আসলে হয়তো কলেরার প্রকৃত কারণ অন্যদিকে নিহিত ছিল; পচা মাছ একটি উপলক্ষ মাত্র।