উদ্দীপকে বর্তমান সময়ের অর্থনৈতিক মন্দার কারণ নির্ণয়ে যে পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে তা বর্ণনা কর। (প্রয়োগ)
1 Answers
উদ্দীপকে বর্তমান সময়ের অর্থনৈতিক মন্দার কারণ নির্ণয়ে যৌথ অন্বয়ী ব্যতিরেকী পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে। নিচে যৌথ অন্বয়ী ব্যতিরেকী পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো-
'অন্বয়ী' পদ্ধতির অর্থ হচ্ছে মিল। আর 'ব্যতিরেকী' পদ্ধতির অর্থ হচ্ছে পার্থক্য। তাই যৌথ অন্বয়ী ব্যতিরেকী পদ্ধতির অর্থ হচ্ছে মিল ও পার্থক্যের পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে দুই বা ততোধিক সদর্থক দৃষ্টান্তে একটি অবস্থায় মিল থাকে। আর নঞর্থক অবস্থায় মিল থাকে না। এরূপ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যে বিষয়টিতে উভয় প্রকার দৃষ্টান্তগুচ্ছের মধ্যে পার্থক্য লক্ষ করা যায়, তার সাথে আলোচ্য ঘটনার অবশ্যই কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক থাকবে। উদাহরণস্বরূপ:
সদর্থক দৃষ্টান্ত | নঞর্থক দৃষ্টান্ত | ||
পূর্ববর্তী ঘটনা | পরবর্তী ঘটনা | পূর্ববর্তী ঘটনা | নঞর্থক দৃষ্টান্ত |
ABC | PQR | BCD | QRS |
ACD | PRS | DEF | STU |
ADE | PST | FGH | UVW |
∴ A হলো P-এর কারণ, বা P হলো A-এর কারণ। উল্লেখিত দৃষ্টান্ত লক্ষ করলে দেখা যায়, সদর্থক দৃষ্টান্তগুচ্ছে পূর্ববর্তী ঘটনার মাঝে BCDE আর পরবর্তী ঘটনার মাঝে ORST কখনো উপস্থিত আবার কখনো অনুপস্থিত। অন্যদিকে নঞর্থক দৃষ্টান্তগুচ্ছে পূর্ববর্তী ঘটনার ক্ষেত্রে BCDEFGH, আর পরবর্তী ঘটনার ক্ষেত্রে QRSTUVW কখনো উপস্থিত আবার কখনো অনুপস্থিত। এর অর্থ হলো, যেক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বিষয়রূপে A উপস্থিত থাকে, সে ক্ষেত্রে পরবর্তী বিষয়রূপে P উপস্থিত থাকে। অন্যদিকে A অনুপস্থিত থাকলে P অনুপস্থিত থাকবে। সে অনুসারে অনুমান করা হয় যে, A হলো কারণ, P হলো কার্য।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, যৌথ অন্বয়ী ব্যতিরেকী পদ্ধতির মাধ্যমে উদ্দীপকে উল্লেখিত অর্থনৈতিক মন্দার কারণ নির্ণয় করা হয়েছে।