1 Answers
উদ্দীপকে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষণমূলক পদ্ধতি ব্যবহার করে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পেরেছেন। নিচে পরীক্ষণমূলক পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হলো-
আরোহ অনুমানের কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পরীক্ষণমূলক পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। যুক্তিবিদ মিল ও বেইন কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষণমূলক পদ্ধতিগুলোর সাহায্যে নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণ থেকে অপ্রয়োজনীয় ঘটনাবলি বাদ দেন বা অপনয়ন করেন। এজন্য পরীক্ষণমূলক পদ্ধতিগুলোকে অপনয়ন পদ্ধতি বলা হয়। অপনয়ন হলো একটি নঞর্থক কাজ, তবে পরীক্ষণমূলক পদ্ধতিগুলোর সদর্থক কাজও রয়েছে। পরীক্ষণমূলক পদ্ধতির মুখ্য উদ্দেশ্য হলো কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার করা ও প্রমাণ করা। পরীক্ষণমূলক পদ্ধতিগুলোর গৌণ উদ্দেশ্য হলো অবান্তর ও অনাবশ্যক বিষয়কে পরীক্ষণ ও নিরীক্ষণ থেকে অপনয়ন করা। তবে অপনয়ন করা পরীক্ষণমূলক পদ্ধতিগুলোর আসল কাজ নয়; বরং পরীক্ষণমূলক পদ্ধতিগুলোর আসল উদ্দেশ্য হলো কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার করা ও প্রমাণ করা।
মিল এর পাঁচটি পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতির মধ্যে দুটি পদ্ধতি, অর্থাৎ অন্বয়ী ও ব্যতিরেকী পদ্ধতি হলো মৌলিক পদ্ধতি এবং বাকি তিনটি (অর্থাৎ যৌথ-অন্বয়ী ব্যতিরেকী, সহপরিবর্তন পদ্ধতি এবং পরিশেষ পদ্ধতি) হলো এ দুটির রূপান্তরিত প্রকরণ। তবে কোনো ঘটনার যথার্থ কারণ নির্ণয় করতে হলে সদর্থক ও নঞর্থক দৃষ্টান্তের সাহায্যে অন্বয়, অর্থাৎ মিল ও ব্যতিরেকী, অর্থাৎ অমিল উভয় অবস্থা নিরীক্ষা ও পরীক্ষা করে কারণ নির্ণয় করতে হয়।
অবশ্য এদের যেকোনো একটির দ্বারা কারণ নির্ণয় করা গেলেও সেই কারণ কম-বেশি মাত্রায় সম্ভাব্য হয়ে পড়ে। কাজেই মিলের পরীক্ষণাত্মক পদ্ধতি পাঁচটিকে আসলে একটি পদ্ধতিরই ভিন্ন ভিন্ন রূপ বলে বিবেচনা করা যুক্তিযুক্ত। উদ্দীপকে আকাশে মেঘ জন্মালে বৃষ্টি হয়, মেঘ না জন্মালে বৃষ্টি হয় না- এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বিজ্ঞানীদের অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়।
সুতরাং বলা যায়, কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ে পরীক্ষণমূলক পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।