1 Answers
উদ্দীপকে হরিণ সম্পর্কে কাজলের উত্তরের অব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি এবং সংকর বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে। নিচে এই অনুপপত্তিগুলো ব্যাখ্যা করা হলো-
যৌক্তিক বিভাগের একটি অন্যতম ভ্রান্ত রূপ হচ্ছে 'অব্যাপক বিভাগ', যার উদ্ধ ঘটে বিভাগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মের লঙ্ঘন থেকে। এই নিয়ম অনুযায়ী, যৌক্তিক বিভাগের ক্ষেত্রে বিভক্ত উপজাতি বা উপশ্রেণিগুলোর মিলিত ব্যক্তর্থ বিভাজ্য জাতি বা শ্রেণির ব্যক্তর্থের সমপরিমাণ হবে। কিন্তু যদি কম হয়, তাহলে উদ্ভব ঘটে আলোচ্য ত্রুটিপূর্ণ বিভাগের। অর্থাৎ এরূপ ক্ষেত্রে একটি জাতি বা শ্রেণিকে বিভক্ত করার সময় এর অন্তর্গত সম্ভাব্য সবগুলো উপজাতি বা উপশ্রেণি উল্লেখ করা হয় না, বরং এ ক্ষেত্রে দু-একটি উপজাতি বা উপশ্রেণি বিভাজন-প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ে যায়। যেমন: উদ্দীপকে 'হরিণ' পদের বিভাগে কেবল বন্য, পোষ্য এবং বাংলাদেশ ও ভারতের হরিণের কথা উল্লেখ করায়, অন্যান্য দেশের হরিণ এবং অন্যান্য জাতের হরিণ বাদ পড়ে গেছে। ফলে, 'হরিণ' পদের ব্যক্তর্থের চাইতে বিভক্ত উপ্রশেণিগুলোর ব্যক্তর্থ কম হওয়ায় অব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে।
যৌক্তিক বিভাগের আরেকটি অন্যতম ভ্রান্ত রূপ হচ্ছে 'সংকর বিভাগ', যার উদ্ভব ঘটে বিভাগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মের লঙ্ঘন থেকে। এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পদকে বিভক্ত করার ক্ষেত্রে একই সময়ে একটিমাত্র মূলসূত্র গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু যদি বিভাজন-প্রক্রিয়ায় একই সময় একাধিক মূলসূত্র ব্যবহার করা হয়, তাহলে এ ক্ষেত্রে আলোচ্য ত্রুটিপূর্ণ বিভাগের উদ্ভদ্ধ ঘটে। কারণ একাধিক মূলসূত্রের ভিত্তিতে কোনো শ্রেণিকে বিভক্ত করলে এ থেকে বিভিন্ন উপশ্রেণির উদ্ভব ঘটে। এরূপ ক্ষেত্রে বিভক্ত উপশ্রেণিগুলো একই শ্রেণি থেকে অনুসৃত হয় বলে এগুলো তাদের প্রকৃতি অনুসারে ভিন্ন না হয়ে বরং পরস্পরের সাথে মিশ্রিত হয়ে পড়ে। আর তখনই বিভাজন-প্রক্রিয়াটি ভ্রান্ত হয়। যেমন : 'হরিণকে' একইসাথে ডোরাকাটা, বন্য, পোষ্য শ্রেণিতে ভাগ করায় উদ্দীপকে সংকর বিভাগ অনুপপত্তি ঘটেছে। কেননা, 'ডোরাকাটা' হরিণ 'বন্য' হতে পারে আবার 'পোষ্যও' হতে পারে।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকে 'অব্যাপক বিভাগ অনুপপত্তি' এবং 'সংকর বিভাগ অনুপপত্তি' ঘটেছে।